Published : 01 May 2026, 05:57 PM
ঋণের ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে না পারায় একটি এনজিওর করা মামলায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার এক নারীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। তবে ওই নারী বাড়িতে রেখে গেছেন দুই বছর বয়সী এক সন্তান।
শুক্রবার সকালে সিরাজগঞ্জের একটি আদালতের মাধ্যমে ওই নারীকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন তাড়াশ থানার ওসি হাবিবুর রহমান।
বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর পাটগাড়ি পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে তাকে তাড়াশ থানা হাজতে রাখা হয়েছিল।
গ্রেপ্তার জান্নাতি খাতুন (২৫) ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলা থেকে জানা গেছে, জান্নাতির স্বামী আব্দুর রাজ্জাক বছর খানেক আগে ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ-টিএমএসএস এনজিওতে ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের ফিল্ড সুপারভাইজার পদে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার কাছিকাটা শাখায় চাকরি করতেন।
সেই সময় তিনি চাকরির শর্ত মোতাবেক এনজিওতে ২৪ হাজার ৮০০ টাকা জামানত জমা রাখেন। একই সময়ে ওই শাখা থেকে জান্নাতি খাতুনের নামে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন রাজ্জাক। কিছুদিন পর এনজিও থেকে চাকরির ইস্তফা দেন তিনি।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “টিএমএসএস এনজিও থেকে নেওয়া ৫০ হাজার টাকা ঋণের মধ্যে ২৫ হাজার টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করেছি। আর ওই এনজিওতে চাকরিকালীন সময়ে জামানত রাখা ২৪ হাজার ৮০০ টাকা স্ত্রীর ঋণের সঙ্গে সমন্বয় করতে শাখা ব্যব্স্থাপককে অনুরোধ করেছিলাম।
“কিন্তু জামানতের টাকা ঋণের সঙ্গে সমন্বয় না করে আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে এনজিও কর্তৃপক্ষ। ওই মামলায় আদালত পরোয়ানা জারি করলে জান্নাতিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অথচ জামানত রাখা ওই টাকা টিএমএসএস আমাকে এখনো ফেরত দেয়নি।”
ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, নাটোরের একটি আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় জান্নাতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আর জান্নাতির সন্তানকে তার মায়ের (শিশুর নানি) হেফাজতে দেওয়া হয়।