Published : 29 Jan 2025, 08:21 PM
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার কৃষক বাদল ওরফে বদরুলকে হত্যার ১২ বছর পর চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বুধবার ঠাকুরগাঁওয়ের জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মো. আবুল মনসুর মিঞা এক আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) আব্দুল হালিম।
দণ্ড পাওয়ারা হলেন- উপজেলার পটুয়াপাড়া গ্রামের আনছারুল ইসলামের ছেলে মিজানুর রহমান, একই গ্রামের কাশমত আলীর ছেলে আফছার আলী, শহর আলীর ছেলে সুমন এবং রাণীশংকৈল উপজেলার মধ্যবনগাঁও গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে সাগর। তাদের মধ্যে মিজানুর আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বরাতে পিপি আব্দুল হালিম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মিজানুর রহমানের সঙ্গে তার আপন বড় ভাই মোখলেছের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বাবার সব সম্পত্তি নিজের করতে মোখলেছকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মিজানুর।
“মোখলেছকে হত্যার জন্য আফছার আলী, সাগর ও সুমনের সঙ্গে দুই লাখ টাকার চুক্তি করে মিজানুর। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৩ সালের ১০ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে মোখলেছকে হত্যার উদ্দেশে অপেক্ষা করেন আসামিরা।
“সেই সময় বাদল ওই পথ দিয়ে পাশের হাজীপুর হিন্দুপাড়ায় রাজেন্দ্র নাথের ছেলের অন্নপ্রাসনের দাওয়াত খেতে যাচ্ছিলেন। অন্ধকারে আসামিরা বাদলকে মোখলেছ ভেবে তার গলা কেটে ও মৃত্যু নিশ্চিত করতে মাথায় আঘাত করেন। মৃত্যুর পর তাকে আখ ক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যান আসামিরা।”
পরদিন সকালে স্থানীয়রা বাদলের মৃতদেহ দেখতে পেয়ে তার পরিবার ও থানায় খবর দেয় বলে জানান তিনি।
ঘটনার পরদিন বাদলের বড়ভাই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হালিম।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মিজানুর রহমান, আফসার আলী, সাগর ও সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এক পর্যায়ে আফছার আলী, সাগর ও সুমন জামিনে বের হলেও তারা আর আদালতে হাজিরা দেন নাই।
তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর মিজানুর রহমান, আফসার আলী, সাগর ও সুমনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করেন পীরগঞ্জ থানার তৎকালীন এসআই রায়হান আলী।
পরে বাদীপক্ষ অভিযোগপত্র নিয়ে আপত্তি তুললে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত (সিআইডি) বিভাগকে নির্দেশ দেয় বলে জানান পিপি আব্দুল হালিম।
তদন্তে হত্যার সঙ্গে মিজানুর রহমান, আফসার আলী, সাগর ও সুমনের জড়িত থাকার প্রমাণ পায় সিআইডি। পরে ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর তৎকালীন সিআইডির পরিদর্শক মাসুদ রানা ওই চারজনকে আসামি করে আবার আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করেন।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের যাবজ্জীবনের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়; যা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর কারাবাসে থাকতে হবে বলে জানান পিপি আব্দুল হালিম।
এ রায়ের মাধ্যমে বাদীপক্ষ ন্যায় বিচার পেয়েছেন বলে জানান তিনি।