১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

রাবিতে ভবনের রঙের কাজ বন্ধ করে দিলেন ঠিকাদার, সাংবাদিক ‘হেনস্তা’

টেন্ডার ছাড়া সরাসরি কোম্পানির মাধ্যমে কাজ করানোয় ঠিকাদাররা এমনটা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Dec 2025, 09:56 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:16 PM

টেন্ডার ছাড়া সরাসরি কোম্পানির মাধ্যমে কাজ করানোয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ভবন ও স্টেডিয়ামে চলমান রঙের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে।

রোববার সকালে রঙের কাজ বন্ধ করে দেন ঠিকাদাররা। বিষয়টি নিয়ে প্রক্টরের কার্যালয়ে আলোচনার সময় কয়েকজন ঠিকাদার অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। সেই ঘটনা ভিডিও করার সময় এক সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হন।

সিন্ডিকেটের অনুমোদন নিয়েই সরাসরি কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার।

সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবিতে ক্রিয়াশীল তিন সাংবাদিক সংগঠন রাবি প্রেস ক্লাব, রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটি ও রাবি সাংবাদিক সমিতি প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

হেনস্তার শিকার সোহাগ আলী ‘চ্যানেল টোয়েন্টিফোর’ ও ‘দৈনিক সোনার দেশের’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, সময় স্বল্পতার কারণে প্রশাসন ভবন-১, প্রশাসন ভবন-২, সিনেট ভবন ও স্টেডিয়ামে রঙের কাজ বার্জার পেইন্টসের মাধ্যমে করানো হচ্ছিল। সংশ্লিষ্ট কমিটির সিদ্ধান্তে টেন্ডার ছাড়া সরাসরি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তবে নিয়মিত ঠিকাদাররা দাবি তুলে বলেন, সারা বছর কাজ করার কারণে এই কাজটিও তাদেরই পাওয়া উচিত। এ দাবিতে তারা বার্জারের কাজ বন্ধ করে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, “আলোচনার সময় কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তাদের নিয়মিত কাজের লাইসেন্স আছে কি-না জানতে চাইলে, তারা আরও উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন। 

“এ সময় এক সাংবাদিক ঘটনার ভিডিও করতে গেলে, তারা (ঠিকাদার) চড়াও হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই সহকারী প্রক্টরকে নির্দেশ দিলে তারা ওই সাংবাদিককে নিরাপদে বের করে নিয়ে যান।”

ভুক্তভোগী সোহাগ আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রক্টর দপ্তরের ভেতরেই কয়েকজন আমার ওপর চড়াও হয়; যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি।”

বন্ধ করে দেওয়া রঙের কাজ কবে শুরু হবে জানতে চাইলে জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার বলেন, “কাজ আগামীকাল থেকেই শুরু হবে। সমাবর্তন ১৭ ডিসেম্বর, তাই দ্রুত কাজ শেষ করা প্রয়োজন। 

“তাছাড়া সরাসরি কোম্পানিকে কাজ দেওয়ায় কোনও অনিয়ম হয়নি। সিন্ডিকেটের অনুমোদন নিয়েই কাজ হচ্ছে। এটি এমন কাজ নয় যে টেন্ডার বাধ্যতামূলক। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত কোম্পানি থেকে কাজ নেওয়ার একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে।”