২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সিরাজগঞ্জে পুলিশকে মারপিট করে দণ্ড পাওয়া আসামি ছিনতাই

আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন বলে পুলিশের ভাষ্য।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Oct 2024, 09:22 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:21 PM

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় পুলিশকে মারপিট করে সাজা পাওয়া এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

শনিবার সকালে পৌর শহরের রঘুনীলি-মঙ্গলবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তাড়াশ থানার ওসি মো. আসলাম হোসেন।

সাজা পাওয়া আসামি মো. ফিরোজ (৪০) পৌর শহরের শোলাপাড়া মহল্লার প্রয়াত আব্দুল গণির ছেলে। 

ওসি আসলাম হোসেন জানান, ফিরোজ বেশ কিছুদিন আগে নাটোরের এক ব্যবসায়ীর কাছে থেকে বাকিতে মালামাল নিয়ে একটি ব্যাংকের চেক দেন। ওই ব্যবসায়ী চেকটি জমা দিলে ফিরোজের ব্যাংক হিসেবে পর্যাপ্ত তহবিল নেই বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। 

পরে ওই ব্যবসায়ী নাটোর দেওয়ানি আদালতে পাওনা টাকার দাবিতে মামলা করেন। মামলার রায়ে আসামিকে আট লাখ ৯৩ হাজার ৮৭০ টাকা জরিমানা ও এক বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়।

তিনি বলেন, “শনিবার সকাল ১১টার দিকে তাড়াশ থানার এসআই মো. মন্টু মিয়া সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে আসামি ফিরোজকে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় পাশের চায়ের দোকানে থাকা পৌর বিএনপির নেতা মো. ওমর আলী এবং রঘুনিলী মঙ্গলবাড়িয়া বিজ্ঞান কৃষি ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়ের ল্যাব সহকারী মো. জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল পুলিশকে মারপিট করে ফিরোজকে ছিনিয়ে নেন।”

অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা ওমর আলী বলেন, “আমি শুধু পুলিশের কাছে তাদের পরিচয় জানতে চেয়েছি। এর মধ্যে বাজারের লোকজন জমায়েত হলে ফিরোজ তার লুঙ্গি খুলে রেখে পালিয়ে যান।

“পরে পুলিশ সদস্যরা মোবাইল ফোনে আমাদের ভিডিও করে নিয়ে যান। এখন শুনছি আমাদের বিরুদ্ধে থানায় ছিনতাই মামলা করা হচ্ছে।”

তাড়াশ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক তপন গোস্বামী বলেন, “আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতরা বিএনপির সমর্থক। তবে তারা দলীয় কোনো পদ-পদবিতে নেই। এ ছাড়া ওমর আলী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন।”

সন্ধ্যায় ওসি আসলাম হোসেন বলেন, “আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার সময় এসআই মন্টু ও পুলিশ কনস্টেবল সনাতনকে মারধর করা হয়েছে। 

“ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের স্বজনরা ফিরোজকে ফিরিয়ে দিতে থানায় যোগাযোগ শুরু করেছেন। আমরা অপেক্ষায় আছি।”

সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি।