সিলেটে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মী খুন: বাবুল ফের রিমান্ডে
১২ অগাস্ট সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সিলেট নগরীর বাসায় স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মীকে হত্যার মামলায় বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফারহানা সুলতানা দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল, আদালত দুই দিনের মঞ্জুর করেছেন।
১৫ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে আলোচিত এই তিন খুনের মামলার তদন্তভার সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) থেকে পিবিআইয়ে স্থানান্তর করা হয়।
১২ আগস্ট সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনার (১৬) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন।
ঘটনার দিন বিকালেই রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বাবুল মিয়াকে আটক করে পুলিশ। পরে ১৬ আগস্ট তাকে প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।
সম্পত্তি বিরোধ ও ‘ভাড়াটে খুনি’র অভিযোগ
আলোচিত এই ট্রিপল মার্ডারের কারণ নিয়ে আসামির বক্তব্য, পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ও নিহতদের পরিবারের অভিযোগে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানার দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে পেশাদার ভাড়াটে খুনি দিয়ে তার মা-বাবা ও গৃহকর্মীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, নগরীর রায়নগর ও রিকাবিবাজার এলাকার লুসাই গির্জা সমিতির মূল্যবান ভূমির মালিকানা নিয়ে তার বাবার সঙ্গে স্থানীয় অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের দীর্ঘদিনের বিরোধ ও একাধিক মামলা বিচারাধীন ছিল। মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন সময় তাদের হুমকি দেওয়া হতো। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আসামিরা হত্যা শেষে বাসা থেকে মামলা ও ভূমি সংক্রান্ত সব কাগজপত্র, জিডি কপি ও দলিলপত্র লুটে নিয়ে যায়।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সেসময় অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেছিলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হোক।
