হত্যাচেষ্টার মামলায় আরও দুই দিনের রিমান্ডে দিলীপ আগরওয়ালা
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দিলীপ আগরওয়ালা।
চব্বিশের আন্দোলনের মুখে সরকার পতনের দিন এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন রিমান্ডের আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই হেলাল উদ্দিন রিমান্ডের তথ্য দিয়েছেন।
গেল ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
পরদিন সোনা ও হীরা চোরাচালন এবং অর্থ পাচারের মামলায় তাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। এরপর বুধবার শিক্ষার্থী আ. জব্বার হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
রিমান্ড শেষে রোববার তাকে আদালতে হাজির করে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সুমন মিয়া।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এ আসামি ফ্যাসিস্ট হাসিনার ঘনিষ্ট সহযোগী। হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে ফ্যাসিজম কায়েম করতে অর্থের জোগান দিয়েছেন। তিনি ফ্যাসিস্টের অন্যতম দোসর। মামলার ঘটনার সাথে জড়িত ছিল। মামলার ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।”
দিলীপ কুমার আগরওয়ালার পক্ষে অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল কবীর বাবুল, আব্দুল্লাহ আল মনসুর রিপনসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন।
আনোয়ারুল কবীর বাবুল বলেন, “মামলার ঘটনা ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট দুপুরের। এ আসামি ঘটনার সময় দেশের বাইরে ছিলেন। ১৭ অগাস্ট দেশে ফেরেন। এরপর ৪ সেপ্টেম্বর তিনি গ্রেপ্তার হন। তাকে ১১ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১৩ মাস কারাগারে থেকে মুক্ত হন তিনি।
“আসামির বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালান, ভেজাল ডায়মন্ড আমদানির অভিযোগ তোলা হয়। এর কোনো প্রমাণ নেই। ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিরা এমনটি ছড়িয়ে ব্যবসার সুনাম ক্ষুন্ন করছে। তিনি ষড়যন্ত্র করেছেন, অর্থ লগ্নি করেছেন এমন কোনো অভিযোগ নেই।"
আব্দুল্লাহ আল মনসুর রিপন বলেন, “রিমান্ডের কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তিনি গুরুতর অসুস্থ।”
পরে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
মামলার বিবরণী বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট উত্তরা পশ্চিম থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আ. জব্বার। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ তিনি বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম রয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ১০০/১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল তখনকার র্যাব। সেদিন মধ্যরাতে গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড কার্যালয় ঘিরে অভিযান চালায় র্যাব।
পরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে ঢাকার বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামে এক কিশোরকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ। বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে। নেওয়া হয় রিমান্ডেও। এসব মামলায় নিম্ন ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি কারামুক্ত হন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দিলীপ আগরওয়ালা। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য।
