রিমান্ড শেষে কারাগারে দিলীপ আগরওয়ালা
তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের দিন এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দুই দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মো. সুমন মিয়া।
শুনানি নিয়ে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন আদেশ দেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন।
গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন সোনা ও হীরা চোরাচালান এবং অর্থ পাচারের মামলায় তাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।
এরপর ২১ অক্টোবর শিক্ষার্থী আ. জব্বারকে হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এ মামলায় ২৫ অক্টোবর তার আরও দুই দিনের রিমান্ড আদেশ দেয় আদালত। সেই রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আ. জব্বার। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সুস্থ হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ তিনি উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনকে আসামি করা হয়। নাম ছাড়া আরও ১০০/১৫০ জনকে আসামি করা হয়।
সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল তখনকার র্যাব। সেদিন মধ্যরাতে গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড কার্যালয় ঘিরে অভিযান চালায় র্যাব।
পরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে ঢাকার বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামে এক কিশোরকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ। বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে। নেওয়া হয় রিমান্ডেও। এসব মামলায় নিম্ন ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি কারামুক্ত হন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দিলীপ আগরওয়ালা। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য।
