Published : 14 Jan 2026, 10:00 PM
নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলার হাজিরা দিতে আসা এক তরুণকে ছাত্রলীগকর্মী সন্দেহে আটকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
তিনি বলেন, “আমরা এ রকম একটি ঘটনার কথা শুনেছি। তবে তখন ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাইনি। পরে এ বিষয়ে কেউ অভিযোগও করেননি।”
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক সংবাদকর্মী জানান, নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারহান ও তার কয়েকজন অনুসারী আদালতের সামনে সজীব মিয়া নামের এক যুবককে ঘিরে ধরেন।
তাকে ছাত্রলীগ নেতা দাবি করে তার শার্টের কলার চেপে হেনস্তা করেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। তারা মারধরেও উদ্যত হন। তাৎক্ষণিক ঘটনাটি দেখে আইনজীবীরা ওই ছাত্রদল নেতাকে বাধা দেন। পরে ওই নেতাকে জেলা আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ সময় সেখানে উপস্থিত হন জেলা আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি (এপিপি) রাজীব মণ্ডল। তিনি সজীব মিয়ার পক্ষের আইনজীবী। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রাজীব জেলা আইনজীবী সমিতিরও সমাজসেবা সম্পাদক।
রাজীব বলেন, সজীবের বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায়। সাবেক স্ত্রী তার বিরুদ্ধে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। ওই মামলায় জামিনে থাকা সজীব আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন।

“বিষয়টা তো ছাত্রলীগ ইস্যু না। তার বিরুদ্ধে ওই রিলেটেড কোনো মামলাও নেই। ছাত্রলীগের কাউকে তো আর আমি ছাড়াতে যাব না। সে নিজেও একজন বিচারপ্রার্থী, তাকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তুলে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। বিষয়টা তো আইনগত না। তাই বাধা দিয়েছি এবং পরে ওই ছাত্রদল নেতাও তার ভুল বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন”, বলেন তিনি
যদিও সজীবের সাবেক স্ত্রী ও ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ফারহানের দাবি, সজীব মুক্তাগাছা উপজেলার কুমারগাঁথা ইউনিয়নের সক্রিয় ছাত্রলীগ কর্মী। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরও সজীব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন।
সজীবের নামে ছাত্রলীগের পোস্টার ও কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার ছবি মোবাইলে দেখালেও সংগঠনে তার কোনো পদ আছে কি-না সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি ছাত্রদল নেতা ফারহান।
সজীবের বাড়ি ময়মনসিংহ হলেও নারায়ণগঞ্জে বড় ভাইয়ের বাড়িতে বসবাস করছিলেন বলেও জানান তারা।
আদালত পাড়ায় সজীব হেনস্তার শিকার হয়েছেন, তা জানতেন না দাবি করে তার সাবেক স্ত্রী বলেন, “দুপুরে যখন আমরা কোর্টে উঠি তখন আসামিপক্ষের আইনজীবী বিষয়টি আদালতকে বলেন। তখন আমরা জানতে পারি।”
তবে ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ফারহান বলেন, “সজীব নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় একজন কর্মী। এখনো তার সংগঠনের মিছিলে সক্রিয়তা আছে। তার ফেইসবুক ঘেঁটে আমরা এগুলো পেয়েছি।”
“তাকে ধরে পুলিশে দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আইনজীবীরা আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন।”
আইনজীবী রাজীব মণ্ডল বলেন, “মব সৃষ্টির মাধ্যমে পরিস্থিতি যাতে খারাপ দিকে না যায় সেজন্য আমরা আইনজীবীরা বিষয়টিকে সমাধান করতে উভয়পক্ষকে বার ভবনে নিয়ে যাই। সেখানে, বিষয়টি মীমাংসা হয়।”
যদিও এসব বিষয় সজীব মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে ১৪ ডিসেম্বর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের সামনে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েছিলেন পুলিশের সাবেক এক কর্মকর্তা। পরে পরিস্থিতি সামাল দেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।