০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শার্শায় কাঁচামরিচ ১৮০ টাকা কেজি; বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

যশোরের শার্শায় হাট-বাজারে ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরের কাঁচামরিচ বেড়ে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে বিপাকে পড়েছে নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

বেনাপোল প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Aug 2021, 04:21 PM

Updated : 10 Oct 2022, 06:11 PM

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল জানান, খরিপ-১ মৌসুমের কাঁচা মরিচ আবাদ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সাধারণত এ সময়টা আবহাওয়ার বিরূপ আচারণ করে।

দুসপ্তাহ আগে ক্ষেত থেকে অধিক পরিমাণ মরিচ তুলছিলেন কৃষকরা। সেই সময়ে কঠোর লকডাউনের কারণে এলাকার বাইরে মচির বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। যার ফলে স্থানীয় বাজারে চাহিদা কম থাকায় ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি করছিলেন তারা।

তিনি বলেন,“সম্প্রতি অতিবর্ষণে ক্ষেতে পানি আটকে যাওয়ায় মরিচের গাছ শুকিয়ে উৎপাদন কমে গেছে। একই সঙ্গে জেলার বাইরেও মরিচের চাহিদা বেড়েছে। ফলে প্রতিকেজি মরিচ এখন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দামে কেনাবেচা হচ্ছে।”

মঙ্গলবার উপজেলার বেনাপোল, নাভারন, বাগআচড়া বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ জাতভেদে ১৮০ থেকে ২০০টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এ সময় দাম নিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে ক্রেতাদের বাকবিতণ্ডাও নজরে  পড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি খরিপ-১ মৌসুমে উপজেলায় ৫৬৩ বিঘা জমিতে কাঁচা মরিচের আবাদ হয়েছে। মুলত এ মৌসুমে মরিচ উৎপাদন কমই হয়। যার ফলে খুচরা বাজারে দাম ওঠানামা করে।

শার্শার সমন্ধকাঠি গ্রামের কৃষক মোজাফফর হোসেন বলেন, তিনি ৩৩ শতক জমিতে মরিচ আবাদ করেছেন। গত কয়েক দিনের অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে মরিচের উৎপাদন কমেছে অর্ধেকে। মঙ্গলবার স্থানীয় পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকায় বিক্রি করেছেন।

জামতলা বাজারের একজন খুচরা তরকারি ব্যবসায়ী নূর উদ্দিন নুরো বলেন, “আড়তে বেশি দাম দিয়ে কাঁচা মরিচ কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।”

নাভারন বাজারে মরিচ কিনতে আসা ভ্যানচালক মনির হোসেন (৪৫) বলেন, “একদিকে লকডাউনে কুমেছে আয়-রোজগার। তেমনি কাঁচামরিচের যা দাম তা আর কিনার জো নেই। পরিস্থিতির এমন যে, কাঁচা মরিচ আমাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।”

বাগআচড়া বাজারে কথা হয় বাবর আলির (৫৫) সঙ্গে। তিনি বলেন, গত ১২/১৩ দিন আগে কাঁচামরিচ কিনেলাম ৩৫ টাকা কেজি। আর আজ কিনলাম ৪৫ টাকায় আড়াইশ গ্রাম। কাঁচা ঝাল পেঁয়াজ) দিয়ে যে একটু পান্তা ভাত খাব,  তারও উপায় নেই “

নাভারনের পাইকারি তরকারির আড়ৎ 'ইসলামিয়া বাণিজ্য ভাণ্ডারের' মালিক ইসমাইল হোসেন জানান, মঙ্গলবার প্রকার ভেদে কাঁচামরিচ ১৪৫টাকা থেকে ১৬০টাকার মধ্যে বেচাবিক্রি হয়েছে।