০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের অনুমতির ফি ৭০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব

বর্তমানে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের ফি দিতে হয় ৫০০ ডলারের মত।

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের অনুমতির ফি ৭০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব

নিউ ইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 04:16 PM

Updated : 08 Oct 2026, 04:16 PM

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চলাকালীন বা স্নাতক শেষ করার পর কাজের সুযোগ পেতে অন্তত ৭০ হাজার ডলার ফি ধার্যের প্রস্তাব করেছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) ।

বিদেশি ভিসাধারীদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রস্তাবের কথা জানানো হয়।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নন-ইমিগ্রান্ট ‘এফ-১’ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ‘অন-দ্য-জব ট্রেনিং’ বা ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং’ (ওপিটি) সুবিধার জন্য অনুমোদিত সংস্থাকে ৭০ হাজার ডলার পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া অতিরিক্ত কোনো কাজের প্রশিক্ষণের জন্য দিতে হবে আরও ৩০ হাজার ডলার।

বর্তমানে এই ওপিটি সুবিধার জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের ফি দিতে হয় মাত্র ৫০০ ডলারের কাছাকাছি।

ডিএইচএস জানিয়েছে, জালিয়াতি প্রতিরোধ, অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা শক্তিশালী করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এ নিয়ম করা হচ্ছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, নিয়োগকর্তা, শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানগুলো যেন এফ-১ ভিসার নিয়ম মেনে সঠিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করতেই নতুন ফি নির্ধারণ করা হচ্ছে।

ওপিটি ব্যবস্থার আওতায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা ক্লাসের সেশন চলাকালীন সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা এবং পড়াশোনা শেষ করার পর নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ পান। আর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) বিষয়ের শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত সময় কাজ করার অনুমতি পেয়ে থাকেন।

সাধারণত এই ওপিটি প্রোগ্রামগুলো পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের এইচ-১বি ভিসায় কাজ পাওয়ার মূল সেতু হিসেবে কাজ করে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল।

কয়েক দশক ধরে ভারত ও চীনসহ বিশ্বের তরুণ প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীরা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চবেতনের চাকরি এবং স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের (গ্রিন কার্ড) মাধ্যম হিসেবে এই ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে আসছেন। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও দক্ষ কর্মীর চাহিদা মেটাতে তাদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সহজ করবেন এবং স্নাতক শেষ করার পরপরই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু বর্তমান প্রস্তাবটি তার সেই প্রচারণাকালীন অবস্থানের পুরো বিপরীত।

ডিএইচএস-এর অন্যান্য বিধিনিষেধমূলক নীতিগুলোর মতো এই প্রস্তাবটিও আদালতে তীব্র আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিদেশি স্টেম পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে আকৃষ্ট করাতে কাজ করা সংস্থা ‘ট্যালেন্ট মোবিলিটি ফান্ড’-এর পরিচালক ডাগ র‌্যান্ড বুধবার লিঙ্কডইনে লিখেছেন, “এইচ-১বি ভিসার এক লাখ ডলার ফি এবং অন্যান্য কঠোর নীতি যেভাবে আদালতে বাতিল হয়ে গিয়েছিল, এই প্রস্তাবিত নিয়মটিও আদালতে টিকবে না।”

প্রস্তাবিত নিয়মটি চূড়ান্ত করার আগে ৩০ দিন ধরে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে স্কুল, শিক্ষার্থী ও নিয়োগকর্তাদের প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত ৬০ দিন সময় দিয়ে নীতিটি কার্যকর করবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়।