০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাজ্যে বিদেশি আইনজীবীদের কাজের আবেদন সাময়িক বন্ধ

ট্রান্সফারিং কোয়ালিফায়েড লয়ার প্রকল্পে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের আইনজীবীদের আবেদনের চাপে নতুন আবেদন আপাতত নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড।

যুক্তরাজ্যে বিদেশি আইনজীবীদের কাজের আবেদন সাময়িক বন্ধ

ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Oct 2026, 07:35 PM

Updated : 04 Oct 2026, 08:03 PM

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের আইনজীবীদের আবেদনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি আইনজীবীদের কাজের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাজ্য।

যুক্তরাজ্যের ব্যারিস্টার পেশা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড (বিএসবি) জানিয়েছে, ট্রান্সফারিং কোয়ালিফায়েড লয়ার (টিকিউএল) প্রকল্পে নতুন আবেদন আপাতত নেওয়া হবে না।

সম্প্রতি জমে থাকা বিপুলসংখ্যক আবেদন কমানো এবং সেগুলো দ্রুত যাচাই করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসবি।

এই স্থগিতাদেশের ফলে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বিদেশি আইনজীবীদের ব্যারিস্টার হিসেবে যোগ্যতা অর্জনের নতুন আবেদন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে, তবে যদি তাদের যুক্তরাজ্যের অনুমোদিত কোনও ব্যারিস্টার চেম্বার থেকে চাকরির প্রস্তাব বা পদ দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তারা আবেদন করতে পারবেন।

টিকিউএল প্রকল্পে বর্তমানে আসা মোট আবেদনের অর্ধেকেরও বেশি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের আইনজীবীদের। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অন্য দেশের যোগ্য আইনজীবীরা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টার হিসেবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ পান।

গত কয়েক বছরে এই প্রকল্পে আবেদনের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ২০২১-২২ সালে যেখানে টিকিউএল-এ আবেদন জমা পড়েছিল ৩২৫টি, সেখানে ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩৪টিতে। অর্থাৎ, তিন বছরের ব্যবধানে আবেদনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে যে, টিকিউএল এর জন্য আবেদনকারীদের অনেকেরই যুক্তরাজ্যে প্রকৃতপক্ষে ব্যারিস্টার হিসেবে কাজ করার কোনো ইচ্ছা নেই, বরং তাদের অনেকেই অন্য কোথাও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিএসবি মহাপরিচালক ফিল গোল্ডিং বলেছেন, আমাদের নিয়মকানুন বদলাতে হবে যাতে যারা সত্যি সত্যি এখানে আইনজীবী হিসেবে কাজ করবেন, তারা বেশি গুরুত্ব পান। এর ফলে আগে থেকে জমা পড়ে থাকা প্রচুর আবেদনের জটও কমে যাবে।

বিদেশি প্রার্থীদের পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রতারণা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই বিএসবির এই পরিবর্তন এসেছে। কিছু প্রার্থী তাদের হয়ে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য অন্য ব্যারিস্টারদের অর্থ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এমন অনিয়মের আশঙ্কায় ২০২৩ সালে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রার্থীদের অনলাইন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করেছিল বিএসবি।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি সব প্রার্থীকে বিএসবি-এর অনুমোদিত পরীক্ষাকেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।

একটি নজরদারি সংস্থা বলছে যে, ভারতীয় উপমহাদেশ (যেমন- ভারত, বাংলাদেশ ইত্যাদি) থেকে হঠাৎ করে প্রচুর মানুষ আবেদন করছে, কিন্তু কেন করছেন তা পরিষ্কার নয়। বিশেষ করে এমন অনেক মানুষ আবেদন করছে যারা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে গিয়ে তাদের মূল পেশায় কাজই করে না।

তবে, কিছু ল স্কুল দ্বৈত যোগ্যতাকে একজন আইনজীবীর জীবনবৃত্তান্ত উন্নত করার একটি মাধ্যম হিসেবে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে, এমনকি তারা যদি কেবল তাদের নিজ দেশেই ওকালতি করেন তবুও।

বার কাউন্সিল ব্রিটিশ চেম্বারগুলোতে পদপ্রাপ্ত বিদেশি ব্যারিস্টারদের জন্যও ভিসার ব্যবস্থা করে।