২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বগুড়ায় যমুনা পাড়ে হয়ে গেল বারণীর মেলা

বগুড়ায় প্রতিবছরের মতো এবারও হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী বারণীর মেলা।

জিয়া শাহীন

বগুড়া প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Apr 2018, 11:54 PM

Updated : 11 Oct 2022, 12:16 PM

মঙ্গলবার শুরু হয়ে মেলা চলে বুধবার দুপুর পর্যন্ত।

বগুড়া শহর থেকে প্রায় আশি কিলোমিটার দূরে ধুনট উপজেলার ভাণ্ডরবাড়ী হাই স্কুল মাঠে প্রতিবছর এ মেলা বসে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মিষ্টি, মৃৎ সামগ্রী, খেলনা, বটি, দা, চাকু, কৃষিকাজের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, রান্নার মশলা, তাল পাখা, কাপড়ের পাখা, বাঁশের বাঁশিসহ নানা ধরনের সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া রয়েছে নাগর দোলা। এটি গ্রামীণ মেলার একটি ঐতিহ্যবাহী অনুষঙ্গ।

এবারের মেলায় শত শত মানুষের সমাগমে ভিড় জমেছে। ভিড় ঠেলে মেলায় প্রবেশ করার পর বাঁশি, মাইক ও লোকজনের কোলাহলে একাকার অবস্থা।

মেলায় আসা নারী-পুরুষসহ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রতিনিধির।

আরিফ বলেন, “বেচাকেনা খুবই বেশি। মিষ্টি বানাতেই শেষ হয়ে যায়। আগের রাতে যে সব মিষ্টি বানিয়েছিলাম তা সকাল দশটার মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।”

পাখা ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ বলেন, বারণীর মেলায় পাখা বিক্রি হয় বেশি। তাই প্রতি বছরের মতো এবারও নাটোর থেকে তিনি মেলায় এসেছেন পাখা বিক্রি করতে।

চিথুলিয়া গ্রামের কৃষক রব্বানী বলেন, “এখন ক্ষেত নিড়ানীর জন্য পাচুন হাটে বাজারে পাওয়া দুষ্কর। তাই মেলায় এসেছি পাচুন কিনতে। আমার মতো অনেকেই কৃষি কাজ করার জন্য পাচুন, কাঁচি কিনতে মেলায় এসেছে।”

দশ বছরের সুবর্ণা বলে, বাবার সঙ্গে মেলায় এসেছে নাগরদোলায় চড়তে।

ভাণ্ডারবাড়ীর বানিয়াজানের আনন্দকুমার বলেন, “দাদার আমল থেকে দেখে আসছি মেলাটি। আগে এ মেলা ভূতবাড়ী গ্রামে আয়োজন করা হতো। যমুনার ভাঙ্গনে ভূতবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় মেলাটি এখন প্রায় আঠার বছর যাবৎ লাগছে ভাণ্ডারবাড়ী হাইস্কুল মাঠে।”

আনন্দ আরও জানান, মেলা উপলক্ষে স্থানীয়রা আত্মীয়দের নিমন্ত্রণ করে। প্রতিটি ঘরে ঘরে মেলার এক সপ্তাহ আগে থেকে চলে প্রস্তুতি।

ভাণ্ডারবাড়ীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রিত নগেন্দ্র নাথ জানান, বারণীর মেলা উপলক্ষে পূজা হয়। ভোরে পাঁঠা বলি, স্নান শেষে পূজার আচার শেষ করতে দুপুর হয়ে যায়।

“পরে সবাই আমরা কেনাকাটা করতে মেলায় চলে আসি।”

নগেন্দ্র আরও জানান, মূলতঃ পূজা উপলক্ষে চৈত্রের শেষ সপ্তাহে এখানে মেলার আয়োজন করা হয়। মেলাটি আগে হিন্দু সম্প্রদায় আয়োজন করত। তবে কালের সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখন এ মেলা হিন্দু-মুসলমান সবার হয়ে গেছে।

বানিয়াজান গ্রামের আরোতী বালা বলেন, “মেলা থেকে ডাল ফুরংগী, মেথি, কালোজিরাসহ অন্যান্য মশলা এ মেলা থেকেই বেশি করে কিনে রাখি আমরা।”

চিথুলিয়া গ্রাম থেকে আসা জাহানারা বলেন, “মেলার পরের দিন শুধু মহিলারা কেনাকাটা করতে আসে। তাই আমিও এসেছি। এ মেলায় তেঁতুল এবং মসলা ভালো পাওয়া যায়। এছাড়াও চুড়ি ফিতা কেনার জন্য এসেছিলাম ছেলে-মেয়েকে সাথে নিয়ে।”

মেলা কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, “আগে মেলাটি হিন্দু সম্প্রদায় পরিচালনা করত। কিন্তু মেলার বিষয়ে তাদের কেউ এগিয়ে না আসায় ঐতিহ্য রক্ষায় আমরা পরিচালনা করে আসছি কয়েকবছর ধরে। মেলাটি এ এলাকার সকল সম্প্রদায়ের উৎসব।”