Published : 14 Sep 2025, 07:59 PM
এবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে বেল্ট দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে বহিরাগতদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে এক শিক্ষার্থী মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারে চিকিৎসা নেন।
রোববার বিকাল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ এক নম্বর গেইট এলাকায় ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় বহিরাগতরা দুই শিক্ষার্থীর উপর হামলা করে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুল আলীম জানান।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর একজন হলেন কৃষি অনুষদের প্রাণ-রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির রাশিদুল আলম রিফাত এবং অন্যজন একই বিভাগের ছাত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (কেবি) কলেজের খেলার মাঠ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে এলাকাবাসী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের রাস্তা অবরোধ করে মানববন্ধন করছিল। এ সময় দুই শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। পরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে এলাকাবাসী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে রাশিদুল মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হেলথ কেয়ার সেন্টারে চিকিৎসা নেন। নারী শিক্ষার্থীকেও বেল্ট দিয়ে পেটানো হয়।
রাশিদুল আলম রিফাত বলেন, “আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সময় দেখি তারা রাস্তা আটকে আন্দোলন করছে। আন্দোলনকারীদের বললাম, আমরা তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাই। আপনারা রাস্তা ব্লক করে আন্দোলন করছেন। আন্দোলন করুন, কিন্তু কারো অসুবিধা না হলে ভালো হয়। আপনারা আপনাদের দাবিতে আন্দোলন করবেন, আমরা তো বাধা দেব না।
“এ কথা বলতেই তারা বলে, আমি নাকি বেয়াদবি করেছি। এরপর তারা আমাকে মারতে আসে। তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড দেখাই, তবু ছয়-সাতজন মিলে আমাকে মারধর করে। মাথা রক্তাক্ত জখম হয়।”
এ সময় মারধরের শিকার অন্য শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা একসঙ্গে ছিলাম। তারা রাস্তা আটকে আন্দোলন করলে আমরা খুলে দিতে বলি। তখন আমার উপর হামলা চালানো হয়। এ সময় অনেকে মিলে বেল্ট দিয়ে মারতে থাকে। আমি ঠেকাতে গেলে তারা আমাকেও মারে।”
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (কেবি) কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বহিরাগত এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে কলেজের খেলার মাঠ দখল করে রেখেছে। এতে চুরি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটছে। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধে নির্দেশ দেওয়ায় এলাকাবাসী বোমা মেরে কলেজ উড়িয়ে দেওয়া ও শিক্ষকদের হাত-পা ভেঙে ফেলার হুমকি দেয়।
এর প্রতিবাদে শনিবার কলেজের অধ্যক্ষসহ শিক্ষক-কর্মচারীরা আমরণ অনশনে বসেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে তারা অনশন ভঙ্গ করেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, “আমরা দোষীদের চিহ্নিত করতে এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত দেওয়া আমরা গুরুতরভাবে দেখছি।”
তিনি আরও বলেন, “যে বিষয় নিয়ে বহিরাগত এলাকাবাসী মানববন্ধন করছে, সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। গতকাল আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় আসার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে সুষ্ঠু সমাধানে আসার চেষ্টা করছি। কিন্তু আজকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা জানতে পেলাম।”
বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বরত পুলিশের এসআই মোখলেছুর রহমান বলেন, “ঘটনার পর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় থানা থেকে আসা পুলিশ চলে গেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ এখনো ঘটনাস্থলে রয়েছে। এই ঘটনায় দোষীদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ব্যাপারে মাঠ খুলে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী হৃদয় মন্ডল বলেন, “আন্দোলন আর শিক্ষার্থীর আহত হওয়া দুইটা ভিন্ন ঘটনা। আমাদের আন্দোলনরত কেউ শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলেনি। শিক্ষার্থীরা যখন ব্যারিকেডে লাথি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যাচ্ছিল তখন স্থানীয় এক মুরব্বির সঙ্গে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে এমন হয়। এ নিয়ে আহত শিক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছি। সে কিছুক্ষণের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করবে।”
৩১ অগাস্ট রাত পৌনে ৮টায় সমন্বিত বা কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে বহিরাগতরা। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের আশেপাশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বহিরাগতরা।
এ সময় বেশ কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়। এই ঘটনার রেশ না কাটতেই আবারও বাকৃবির দুই শিক্ষার্থীর ওপর বহিরাগতদের হামলায় ঘটনা ঘটে।