Published : 14 Mar 2026, 10:04 PM
ঈদ মানেই আনন্দ, নতুন পোশাক আর পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে উৎসবের উচ্ছ্বাস। কিন্তু সমাজের অসংখ্য দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য ঈদের আনন্দ সীমাবদ্ধ থাকে অন্যের নতুন জামা দেখার মধ্যে।
এমন বাস্তবতার মধ্যে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
‘আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর’ নামে সংগঠনটির উদ্যোগে শনিবার সকালে শহরের গোলাহাট এলাকার একটি স্কুলের পাশে তৈরি করা হয়েছে ছোট্ট একটি অস্থায়ী দোকান। দোকানের সামনে ঝুলছে বড় একটি ব্যানার ‘১ টাকায় ঈদের নতুন জামা’।
ব্যানারটি দেখেই আশপাশের পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে কৌতূহল ও আনন্দ। কিছুক্ষণের মধ্যেই দোকানের সামনে লম্বা সারি। হাতে একটি করে এক টাকার কয়েন বা নোট আর চোখেমুখে ঈদের স্বপ্ন।

দোকানের ভেতরে ব্যস্ত সময় পার করেন কয়েকজন তরুণ স্বেচ্ছাসেবী। তারা শিশুদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন, পছন্দমতো পোশাক দেখান এবং সাইজ মিলিয়ে দেন। এরপর শিশুদের কাছ থেকে প্রতীকী মূল্য হিসেবে এক টাকা নিয়ে তুলে দেন নতুন ফ্রক, পাঞ্জাবি, শার্ট বা প্যান্ট। নতুন পোশাক হাতে পেয়ে শিশুদের মুখে ফুটে ওঠে নির্মল আনন্দের হাসি।
শহরের গোলাহাট এলাকার ১০ বছরের শিশু রেহান বলে, তাদের পরিবারে আর্থিক কষ্টের কারণে ঈদের সময় নতুন কাপড় কেনা অনেক সময় সম্ভব হয় না। এখানে এক টাকায় নতুন জামা দিচ্ছে শুনে খুব ভালো লাগছে তার। নিজের জন্য একটি পাঞ্জাবি, একটি শার্ট ও প্যান্ট কিনে নেয় রেহান।
আট বছরের আকাশি হাসিমুখে বলে, “আমি নিজের পছন্দের একটা ফ্রক নিয়েছি। খুব সুন্দর লাগছে। ঈদের দিন এটা পরব।”
মাত্র এক টাকায় নতুন পোশাক হাতে পেয়ে মহাখুশি অসহায় সাবিনা (১২) ও কৌশিক (৮)। তাদের দুইজনেরই বাবা নেই। মা অন্যের বাসায় কাজ করে সংসার চালান। এখনো তাদের জন্য নতুন জামা কিনে দিতে পারেননি তিনি।

সাবিনা বলে, “আমার মা বলছিলেন হয়তো এবার নতুন জামা হবে না। কিন্তু এখানে এসে এক টাকায় নতুন জামা পেলাম। খুব ভালো লাগছে।”
কৌশিকও নতুন জামা হাতে নিয়ে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে, “এবার ঈদে নতুন জামা পরে ঘুরতে পারব।”
সেখানে শুধু শিশুদের পোশাকই নয়, এই এক টাকার দোকানে রাখা হয়েছে, অসহায় মানুষের জন্য শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রি-পিসও। দরিদ্র মানুষরাও মাত্র এক টাকার বিনিময়ে এসব পোশাক সংগ্রহ করতে পারছেন।

সংগঠনের সদস্য মিথুন, সামিউল, রাজা, রাব্বি, রকি জানান, সমাজে অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশু রয়েছে যারা প্রায় সব উৎসবেই বঞ্চিত থাকে। ঈদের সময় নতুন জামা তাদের কাছে অনেক বড় স্বপ্নের মতো।
তারা বলেন, ঈদ সবার জন্য আনন্দের দিন। কিন্তু অনেক শিশু নতুন কাপড় কিনতে পারে না। সেই শিশুদের মুখে একটু হাসি ফোটাতেই তাদের এই ছোট উদ্যোগ।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা নওশাদ আনসারী বলেন, “আমাদের এই আয়োজন মূলত এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য। সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের অর্থায়নে এ আয়োজন করেছে।”
তিনি বলেন, “শুধু পোশাক নয়, পর্যায়ক্রমে অসহায় মানুষের মধ্যে শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি-পিসের পাশাপাশি সেমাই, চিনি ও দুধও বিতরণ করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম ঈদের আগের চাঁদ রাত পর্যন্ত চলবে।”