Published : 28 May 2026, 10:53 AM
দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনার মধ্য দিয়ে দিনাজপুরে গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে কোরবানির ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এ নামাজে ইমামতি করেন দিনাজপুর জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী।
এবার কয়েকদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টির কারণে পানি জমে থাকায় প্রায় ২৩ একর এলাকাজুড়ে স্থাপিত এই ঈদগাঁ মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে কিছুটা সংশয় ছিল।
কিন্তু বুধবার থেকে আর বৃষ্টি না হওয়ায় পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত মাঠ নামাজ উপযোগি করে তোলে এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নামাজ শেষে মোনাজাতে মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। পাশাপাশি সারা বিশ্বের মুসলমানদের শান্তি প্রার্থনা করে দোয়া করেন ।
এখানে নামাজে অংশ নেন দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সর্বস্তরের মানুষ।

দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে স্বাধীনতার পূর্ব থেকে ঈদের জামাত হয়ে আসলেও নতুন করে সুদৃশ্য বিশাল মিনার নির্মাণ এবং মাঠ সম্প্রসারণ কর হয় ২০১৬ সালে। তখন থেকে প্রায় ২৩ একর এলাকাজুড়ে স্থাপিত এই ঈদগাঁ মাঠে ঈদের প্রধান জামাত শুরু হয়েছে।
গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে ৫১৭ ফুট দৈর্ঘ্য ঈদগাঁ মিনারে আছে ৫২ টি গম্বুজ। মুল মিম্বারের উচ্চতা ৫৫ ফুট। এখানে এক কাতারে ৫ শতাধিক মানুষ নামাজ আদায় করতে পারেন।
তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের ঝড়-বৃষ্টির কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এবার আগের বছরের তুলনায় জনসমাগম কিছুটা কম ছিল বলে জানা গেছে। এরপরও হাজারো মানুষের সঙ্গে জামাতে অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষরা।
রংপুর থেকে এ মাঠে নামাজ পড়তে আসা আব্দুস সাত্তার (৬৩) বলেন, “আমি প্রায় ১০ বার এই ময়দানে ঈদের নামাজে শরীক হয়েছি। আসলে এ ধরনের বৃহৎ জামাতে অংশ নেওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”
তিনি আরও বলেন, “এবারের ব্যবস্থাপনাও বেশ ভালো ছিল এবং শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। ”
এবার ঈদ জামাতে মাঠের নিরাপত্তায় র্যাব-পুলিশ ছাড়াও সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ছিলেন। মাঠে ওয়াচ টাওয়ার ছাড়াও পুরো মাঠে ড্রোন দিয়ে নজরদারীতে রাখা হয়।
আগের সংবাদ