Published : 12 Feb 2026, 05:05 PM
নীলফামারী-৪ আসনের সৈয়দপুর পৌরসভার ভোটার মো. সামিউল ইসলাম বিয়ের শেরোয়ানি পরে, মাথায় পাগড়ি দিয়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন।
সামিউলের বিয়ের দিন ধার্য ছিল বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ভোটের দিন। এ দিন তিনি প্রথমে ভোট দেন পরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দিতে পরিবারের সঙ্গে কনের বাড়ির পথে রওনা হন।
সৈয়দপুর উপজেলার নিয়ামতপুর সরকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা নজুরুল ইসলামের ছেলে ২৮ বছর বয়সী সামিউল বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে হাজির হয়ে ভোট দেন।
ভোট দেওয়া পর সামিউল বলেন, “ভোট শুধু অধিকার নয়, এটি আমাদের দায়িত্ব। জীবনের যেকোনো ব্যস্ত সময়ে, এমনকি আজকের মতো ব্যক্তিগত আনন্দের দিনে ও আমি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পেরে ধন্য মনে করছি। তাই আগে ভোট পরে বিয়ে।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিয়ের দিনেও ভোট দিতে আসার এ সিদ্ধান্ত সামিউল সমাজের কাছে দায়িত্বশীল নাগরিকতার এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন।
সামিউল বলেন, তার প্রথম ভোট ছিল ২০১৮ সালে। সেদিন ভোট গিয়ে জানতে পারেন, তার ভোট কে বা কারা দিয়ে চলে গেছে।
আক্ষেপের স্বরে তিনি বলেন, “হায়রে কপাল জীবনের প্রথম ভোট দিতে গিয়েও নিজে ভোট দিতে পারিনি। সেই ক্ষোভে ২০২৪ সালেও আর ভোটদিতে কেন্দ্রে যাইনি।”
সামিউল বলেন, “অন্তবর্তী সরকার যখন ত্রয়োদশ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে বলেছিল, বাংলাদেশের নির্বাচন এবার ইতিহাস সৃস্টি করবে। তখনি সিদ্ধান্ত নিয়েছি জীবনের প্রথম ভোটটি ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রদান করবো ও ভোটের দিন ধুমধামে বিয়ে করে ঘরে নতুন বউ আনবো।
“পরিবারের সবার সাথে আলাপ আলোচনার করে আজ আমার জীবনের স্বপ্ন পূরণ করলাম।”
ভোট দেওয়ার পর সামিউল বরযাত্রীর বহর নিয়ে বিয়ের জন্য রংপুরের তারাগঞ্জে রওনা দেন কনের বাড়িতে।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন এলাকার ঘুরে দেখা যায়, নীলফামারীর চারটি আসনেই উৎসবমুখোর পরিবেশে ভোট গ্রহণ হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রের বাইরে ছোটখাটো জটলা আর প্রার্থীদের পক্ষে-বিপক্ষে সমর্থকদের মধ্যে রসিকতা-ঠেলাঠেলি ছিল চোখে পড়ার মতো।