Published : 20 Jul 2025, 02:08 PM
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে থাকা বিভিন্ন স্থানে অহরহ ম্যানহোলের ঢাকনা চুরির ঘটনা ঘটছে।
সড়কে ম্যানহোলের ঢাকনা না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ফলে চলাচলের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে নগরবাসীর।
চুরি ঠেকাতে ‘একাধিকবার’ পুলিশের কাছে আবেদন করেও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ সিটি করপোরেশনের।
যদিও পুলিশের দাবি করেছে, তারা কোন অভিযোগই পাননি।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আজহারুল হক বলেন, “প্রতিদিন গড়ে সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডে ৫ থেকে ৭টি করে ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি হচ্ছে। যার দাম প্রকার ভেদে ৮ হাজার ৫০০ টাকা, ১৬ হাজার ৬৭৫ টাকা এবং ২৫ হাজার টাকা।”
এর আগে ২০২৩ সালে তিন মাসে সিটি করপোরেশনে ৮০ লাখ টাকার ঢাকনা চুরি হয়েছিল বলে জানান এ প্রকৌশলী।
নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হামিদা পারুল বলেন, “কয়েকদিন আগেও আমাদের বাসার সামনের রাস্তায় ম্যানহোলের ঢাকনা ছিল। এরপর হঠাৎ দেখি ঢাকনা গায়েব।
“তাড়াহুড়া করে এলাকার লোকজন সেখানে একটি লাঠিতে লাল কাপড় বেঁধে দিয়েছে। না হয় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন গঠিত হয়। এখানকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে রাস্তাঘাট, ড্রেন, ফুটপাত এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার ১ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়।
সেই অনুযায়ী নগরীতে উন্নয়ন চলমান রয়েছে। রাস্তা সংস্কার করার পাশাপাশি নতুন ভাবে তৈরি হচ্ছে ফুটপাত ও ম্যানহোল।
১৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলিয়া মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম বলেন, “চুর বলাশপুর এবং ভাটিকাশর এলাকার ম্যানহোলের ঢাকনা থাকে না বললেই চলে। সব চুরি করে নিয়ে যায়।
“অনেক সময় চোর ধরা হলেও তারা জামিনে বের হয়ে আবার সেই কাজই করে। ঢাকনাগুলো ভাঙারির দোকানে ৫-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে থাকে।”

বলাশপুরের বাসিন্দা হাফিজা আক্তার বলেন, “ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার পথে ফুটপাত দিয়ে হাঁটছিলাম। হঠাৎ করে পা পিছলে গর্তে পড়ে যায়। কারণ ম্যানহোলের ঢাকনা ছিল না।
“আমি ব্যাথা পেয়েছি তাতে দুঃখ নেই কিন্তু আমার সন্তান পড়ে আঘাত পেতে পারত। ঢাকনা যেন চুরি না হয় সেজন্য সিটি করপোরেশনকে টেকসই উদ্যোগ নিতে হবে।”
সমাজ রুপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “চুরি হচ্ছে বাঙালির অভ্যাস। অনেক ছিঁচকে চোর আছে তারা ঢাকনা চুরির টাকায় নেশা কিনে।
“রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরি করে মানুষকে ভোগান্তির মধ্যে যারা ফেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোরপ্রয়োগ হলে চুরির ঘটনা ঘটত না। এতে সিটি করপোরেশন ও পুলিশের দায় রয়েছে।”
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আজহারুল হক বলেন, “তিন ধরনের ঢাকনা লাগানো হয়ে থাকে। ঢাকা থেকে সেগুলো অর্ডার দিয়ে বানিয়ে আনতে হয়। ঢাকনার ওপরে সিটি করপোরেশনের নাম ও সাল উল্লেখ থাকে। ঢাকনাগুলোর মান ভালো থাকায় রোদ বৃষ্টিতে ভিজলেও জং ধরে না।
“চোরেরা রাতবিরাতে শাবল দিয়ে বলপ্রয়োগ করে ঢাকনাগুলো ভেঙে নিয়ে যায়। সাধারণ মানুষও প্রতিবাদ করে না।”
তার ভাষ্য, “বেশ কয়েকবার পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছিল রাতের টহল জোরদার করার জন্য। কিন্তু পুলিশ তা করেনি। যার কারণে ঢাকনা চুরি কমছে না।”
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “আমি থানায় যোগ দিয়েছি এক মাসও হয়নি। এরমধ্যে ম্যানহোলের ঢাকনা চুরির কোন অভিযোগ পাইনি।
“তবে ঢাকনা চুরি ঠেকাতে ভাঙারি দোকানগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”