১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

পাটের ন্যায্য দাম নিশ্চিত ও ভারতে পাচার বন্ধের দাবিতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন

হাটে প্রতি মণ পাট ৩,৮০০ থেকে ৪,২০০ টাকায় বিক্রি হলেও সীমান্তবর্তী এলাকায় তা ৫,৫০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান চাষিরা।

পাটের ন্যায্য দাম নিশ্চিত ও ভারতে পাচার বন্ধের দাবিতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর হাট সংলগ্ন সড়কে কৃষক ও পাট ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Aug 2026, 05:30 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:59 PM

পাটের ন্যায্য দাম নিশ্চিত এবং সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার বন্ধের দাবিতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন করেছেন ব্যবসায়ী ও চাষিরা।

শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে যাত্রাপুর হাট সংলগ্ন সড়কে পাট হাটে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। 

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কৃষকের কাছ থেকে কম দামে পাট কিনে সীমান্ত এলাকায় বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। পরে এসব পাট বিভিন্ন সীমান্তপথে ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে।

এই সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে না পারলে পাট কৃষকের গলার ফাঁসে পরিণত হবে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উৎপাদন খরচ বাড়লেও স্থানীয় হাটে পাটের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষকেরা। যাত্রাপুর হাটে প্রতি মণ পাট তিন হাজার ৮০০ থেকে চার হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

অথচ সীমান্তবর্তী এলাকায় একই পাট পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে কৃষকেরা স্থানীয় হাটে পাট না এনে সীমান্ত এলাকার ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করছেন।

পাটচাষি আবুল কাশেম বলেন, পাখিউড়া, কালারচর, চৌদ্দকুড়ি, নারায়ণপুর, শৌলমারী ও তেলিরহাট এলাকায় পাটের দাম বেশি পাওয়া যায়। তার দাবি, এসব এলাকার ফড়িয়াদের মাধ্যমে কেনা পাট ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ধুবরি ও পাটামারিহাট এলাকায় পাচার করা হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী উজ্জ্বল মিয়ার অভিযোগ, জুন থেকে প্রতিদিন পাট বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে পাচার হচ্ছে। দ্রুত পাচার বন্ধ না হলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা।

যাত্রাপুর পাট হাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি শাহানুর আলী বলেন, যাত্রাপুর হাট ব্রিটিশ আমল থেকে নৌ-বন্দর কেন্দ্রীক বড় হাট। ঐতিহাসিক এ হাটে আগে সপ্তাহে প্রায় ১০ হাজার মণ পাট বেচাকেনা হত। এখন কৃষকেরা পাট নিয়ে আসছেন না। এই হাটে পাটের ক্রেতা কম আর দামও কম। ক্রমেই হাটটির ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে।