Published : 08 May 2026, 07:31 PM
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনন্য অবদানের কথা স্মরণ করে তাকে ‘বাংলা সাহিত্যের গুরু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
তিনি বলেছেন, “রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান বাঙালির হৃদয়ে আজও জীবন্ত হয়ে আছে। তিনি বাংলা সাহিত্যের গুরু।”
শুক্রবার সকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “কবি এখানে (শাহজাদপুরে) বসে অনেক গান, কবিতা ও গল্প রচনা করেছেন। তাই উনার স্মৃতিবিজড়িত কুঠিবাড়িতে আমরা নানা অনুষ্ঠান পালন করছি। তার কবিতা ও গান বাঙালির মনে আছে, সেটি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যই এই আয়োজন।”
কবির ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে এখন সাজ সাজ রব। এবার তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে কবির জন্মবার্ষিকী পালন করবে রবীন্দ্র অনুরাগীরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন বিভিন্ন সংগঠনের সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
এ উপলক্ষে শুক্রবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির কাস্টডিয়ান শাউলি তালুকদার বলেন, রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকী উৎসব সফল করতে সংস্কার শেষে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জা সজ্জিত করা হয়েছে করা হয়েছে অডিটোরিয়াম ও মিউজিয়াম। যা সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন বলেন, এবার ৮, ৯ ও ১০ মে (বাংলা ২৫, ২৬ ও ২৭ শে বৈশাখ) কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে থাকবে তিনদিনের নানা আনুষ্ঠানিকতা। আয়োজন করা হয়েছে রবীন্দ্র মেলাও।
“উৎসবের এই সময়গুলোতে দেশ-বিদেশ ও স্থানীয় রবীন্দ্র অনুরাগিদের ঢল নামবে কাছারিবাড়িতে। সেটি বিবেচনায় রেখেই সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরাসহ থাকছে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা।”
এক সময় রানী ভবানীর জমিদারীর অংশ ছিল শাহজাদপুর। ১৮৪০ সালে মাত্র ১৩ টাকা ১০ আনায় শাহজাদপুরের এই জমিদারি কিনে নেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। সেই জমিদারী দেখাশুনার জন্য ১৮৯০ থেকে ১৮৯৭, এই ৮ বছর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শাহজাদপুরে আসতেন এবং বসবাসও করতেন।
এখানে বসেই কবি রচনা করেছেন কবিতা সোনারতরী, চিত্র, চৈতালী, কল্পনা, ছোটগল্প পোস্ট মাস্টার, রাম কানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা, ব্যবধান, তারা প্রসন্নের কীর্তি, ছুটি, সমাপ্তি, ক্ষুধিত পাষান, অতিথি, ৩৮টি ছিন্ন পত্রাবলী প্রবন্ধের অংশ বিশেষ, নাটক বিসর্জনের মত সাহিত্য কর্ম।
পাশাপাশি ভূমিকা রেখেছেন এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও শিক্ষার প্রসারে। এখনো যার প্রভাব রয়েছে শাহজাদপুরের মানুষের জীবনাচরণে।
ফলে প্রতি বছরই কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উৎসব উদযাপনে ভিন্ন রকমের অপেক্ষা ও আগ্রহ থাকে এই অঞ্চলের মানুষের মাঝে, সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ।