Published : 28 Dec 2024, 10:49 PM
পটুয়াখালীর বাউফলে চর দখল নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে বিএনপির দুপক্ষের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
উপজেলার চর ফেডারেশন দখলকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে চর এলাকায় শুরু হওয়া সংঘর্ষ দুপুর ১২টার দিকে বাউফল পৌর শহরের হাসপাতাল রোডে ছড়ায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও গুরুতর অবস্থায় জয় নামে এক ছাত্রদল নেতাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এলাকাবাসী, দলের নেতাকর্মী ও পুলিশ জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কালাইয়া ইউনিয়নের চর ফেডারেশন, চর শৌলা ও চর কালাইয়া এলাকার খাস ও বন্দোবস্তের জমিতে উপজেলা যুবলীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান এসএস ফয়সাল আহম্মেদ মনির মোল্লার নেতৃত্বে চাষাবাদ হত। গত ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর এসব চর দখলে মরিয়া হয়ে উঠেন স্থানীয় বিএনপির কয়েকটি পক্ষের নেতারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জসীম আহমেদ তুহিনের অনুসারী যুবদল নেতা স্বপন, ফরিদ, শ্রমিক দল নেতা বিপ্লব চর ফেডারেশন দখলে নিয়ে চাষি দিয়ে তরমুজ আবাদ করেন।
সকাল ১০টার দিকে তুহিনের লোকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা চর ফেডারেশন দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন কালাইয়া ইউনিয়ন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। তখন তুহিনের লোকদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে।
সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রিয়াজ পঞ্চায়েত, ছাত্রদলের জয় (২৪), রেদোয়ান (২৫), ইয়াসিন (২৪) ও মো. সজল (২৩) সহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুপুর ১২টার দিকে জসীম আহমেদ তুহিনকে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে পেয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালায় এক দল লোক।
আত্মরক্ষার জন্য বিএনপি নেতা তুহিন স্থানীয় একটি দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানে গিয়ে আরেক দফা তার ওপর হামলা চালানো হয়।

ওই দোকানে প্রায় ১ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয় তুহিনকে। এ সময় ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের গালাগাল করে তাদের ওপর চড়াও হন মুজাহিদের লোকজন।
পরে পুলিশ ওই দোকান থেকে বিএনপি নেতা তুহিনকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়।
বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। বিএনপি নেতা তুহিন বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে আছেন। অভিযোগ পেয়েছি, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তুহিনের নেতৃত্বে চর ফেডারেশন এলাকায় তার কয়েকজন কর্মীকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। ওই ঘটনার জেরে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন তুহিন।

মুজাহিদুলের দাবি, তিনি তুহিনকে রক্ষা করেছেন এবং উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যেতে চেয়েছেন। মারধরের ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করেন মুজাহিদ।
জসীম উদ্দিন তুহিনের ভাষ্য, ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী ধান লুট করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
তার দাবি, “জীবন বাঁচানোর জন্য ক্লিনিক ও দোকানের মধ্যে আশ্রয় নিয়েও রক্ষা পাইনি। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ না থাকলে হয়তো ওরা আমাকে মেরেই ফেলতো।”
বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জসীম আহমেদ তুহিন একজন নম্র-ভদ্র নেতা। তাকে অপমান-অপদস্থ মেনে নেওয়া যায় না।”
এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।