মাদারীপুরে সরকারি গাছ বিক্রির টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

গাছ বিক্রির অনিয়ম তদন্ত করে প্রকৃত দাম নির্ধারণ করে সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর দাবি স্থানীয়দের।

মাদারীপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 August 2022, 06:22 PM
Updated : 3 August 2022, 06:22 PM

মদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় এলজিইডির একটি সড়কের শতাধিক মেহগনি গাছ বিক্রির টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী এসব গাছ নামমাত্র দামে বিক্রি করা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে, গাছের দাম নির্ধারণে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেন নিলাম কমিটির সভাপতি ও কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

উপজেলা গাছ নিলাম কমিটির সদস্যরা জানান, কালকিনির চর দৌলতখান ইউনিয়নের শিকদারের মার্কেট থেকে চর ফতেবাহাদুর উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা পর্যন্ত এলজিইডির সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে। এ জন্য গত ১৩ জুলাই উপজেলা ভূমি অফিস থেকে উপজেলা মালামাল/গাছ নিলাম কমিটি এ সড়কের পাশের গাছ বিক্রির জন্য নিলাম বিজ্ঞপ্তি দেয়। নিলাম বিজ্ঞপ্তির আগে উপজেলা বন কর্মকর্তা ও উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সড়কের ১১৮টি গাছের দাম গড়ে দুই হাজার ২১৩ টাকা করে মোট দুই লাখ ৫৮ হাজার ৯২১ টাকা নির্ধারণ করেন।

গত ২৪ জুলাই কমিটি গাছ নিলাম তুললে মাতুল মাতুব্বর নামের এক ঠিকাদার ওই টাকার বিপরীতে গাছ অপসারণের দায়িত্ব পান। কিন্তু সড়কের অধিকাংশ মেহগনি গাছ ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী হওয়ায় এসব গাছ নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ গুণ বেশি হবে দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় চর ফতেবাহাদুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হেমায়েত শিকদার বলেন, “আমাদের এলাকার এই সড়কটিতে যে মেহগনি গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা জেনেছি, এই গাছগুলোকে একুশশ থেকে বাইশশ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই গাছগুলোর বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছর। এগুলোর এক একটি গাছের দাম ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা; এমনকি কোনো কোনো গাছের দাম এক লাখ টাকাও হবে। যারা এসব গাছ বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে কম দেখিয়ে নিজেরা লাভবান হচ্ছে; তাদের এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করে সরকারকে প্রকৃত রাজস্ব আয়ের সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

এলাকার আরেক বাসিন্দা আব্বাস শিকদার বলেন, “এই রোডে সরকারিভাবে ১১৭টি গাছের টেন্ডার হলেও কর্তৃপক্ষ প্রায় দুইশর বেশি গাছ বিক্রির জন্য নম্বর লিখে দিয়ে গেছে। সেখানে আমাদের ব্যক্তিগতভাবে লাগানো গাছও আছে। আমাদের লাগানো তালগাছ, জারুলগাছও কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।”

সড়কের গাছগুলোকে পানির দরে বিক্রি করে কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছে বলে তার অভিযোগ।

গাছ বিক্রির অনিয়ম তদন্ত করে প্রকৃত দাম নির্ধারণ করে সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর দাবি স্থানীয়দের।

কালকিনি উপজেলা মালামাল ও গাছ নিলাম কমিটির নির্ধারিত ১১৮টিরও বেশি গাছ সড়ক থেকে কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

ঠিকাদার মাতুল মাতুব্বর বলেন, “আমরা সরকারের কাগজ অনুযায়ী গাছ কেটে নিচ্ছি। আপনরা ভালো করে খোঁজ করে দেখেন, কাগজের বাইরে আমরা কোনো গাছ কেটে নিচ্ছি না।”

সড়কের পুরনো গাছ কম দামে বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গাছ নিলাম কমিটির সভাপতি পিংকী সাহা বলেন, “সঠিক প্রক্রিয়াই গাছগুলো নিলামে দেওয়া হয়েছে। এখানে অনিয়মের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”

কালকিনি উপজেলার গাছ নিলাম কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সদস্য সচিব, উপজেলা বন কর্মকর্তা এবং উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সদস্য হিসেবে আছেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক