“তারা যদি জনগণের বাইরে গিয়ে সংস্কার করেন তাহলে ‘সরি টু সে’।
Published : 02 Apr 2025, 05:18 PM
সংস্কার ও নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপিকে টার্গেট করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, “বিএনপিকে টার্গেট করে একটা প্রচারণা করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি প্রচারণা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। বেশি যেটা হচ্ছে যে, ‘বিএনপি আগে নির্বাচন চায়, তারপর সংস্কার চায়। অথবা বিএনপি সংস্কার চায় না নির্বাচন চায়’।
“আমি আপনাদের সামনে খুব পরিষ্কার করে বলছি, এটা একটা ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করা হচ্ছে জনগণের মধ্যে। আমরা বার বার করে এ কথাটাই বলছি, আমরাই তো সংস্কারের প্রবক্তা, আমরাই সংস্কার চেয়েছি।”
বিএনপি নেতা বলেন, “আমরা আমাদের ৩১ দফা যেটা দিয়েছি সেটার সঙ্গে সরকারের সংস্কারের উদ্যোগের মধ্যে একটাও দেখবেন না যে অমিল আছে। আর কতগুলো বিষয় আছে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে। সেখানে সুস্পষ্টভাবে আমাদের মতামত দিয়েছি। কতগুলো বিষয় আছে যেগুলো মীমাংসিত, সে বিষয়গুলোতে আমরা হাত দিতে চাই না।”
বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ী এলাকার বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি কতটুকু সংস্কার সমর্থন করবে- এ ব্যাপারে দলের মহাসচিব বলেন, “যারা সংস্কারে এসেছেন, খুব জ্ঞানী মানুষ, পণ্ডিত লোক। বিশাল বিশাল ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি করে এসেছেন। তাদেরকে আমরা শ্রদ্ধা করি এবং সম্মানও করি।
“কিন্তু তারা যদি জনগণের বাইরে গিয়ে কিছু (সংস্কার) করেন তাহলে ‘সরি টু সে’; আমরা সেটাকে সমর্থন করতে পারব না। জনগণ যেটা চাইবে আমরা সেটাকে সমর্থন করব।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে ‘বহুত্ববাদ’, এটা আমাদের দেশের কয়টা লোক বুঝে আপনারাই বলেন। এই দেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক কাদের? রাজনৈতিক দলগুলোর, তাই না? এখানে জামায়াত হোক, বিএনপি হোক, আওয়ামী লীগ হোক, জাতীয় পার্টি, জাকের পার্টি হোক, সিপিবি হোক বা ছাত্রদের নতুন সংগঠক হোক- তাদের সম্পর্ক জনগণের সঙ্গে।”
“গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে যেখানে আপনার ভিন্ন মত থাকবে, প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলের যদি এক মত থাকে তাহলে তো এক হয়ে গেল। এখানে একেক জনের একেক মত থাকবে, ভিন্ন মত থাকবে। আর জনগণ বেছে নেবে কোনটা তাদের জন্য উপযুক্ত, এ কারণেই তো নির্বাচন। দলগুলো তাদের পলিসি নিয়ে যাবে জনগণের কাছে। জনগণ যাদের ভোট দেবে তারাই সরকার গঠন করবে এবং তারাই পার্লামেন্ট গঠন করবে। এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র।”
তিনি বলেন, “কিছু সংস্কার তো প্রয়োজন হবেই। সংস্কার হবে, সংস্কার যখন হওয়ার তখন হবে, এখানে সংস্কারের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো পার্থক্য নেই। যে কথাটা আমরা বলতে চেষ্টা করি, হয়তো বোঝাতে পারি না, অথবা আপনারা বোঝেন না অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বোঝেন না এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে চান অনেকেই; সেই জায়গাগুলোতে সমস্যা।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “একটা অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্যে ন্যূনতম যে সংস্কার দরকার সেগুলো করতে হবে। নির্বাচন ব্যবস্থাকেন্দ্রীক যে সংস্কার- যেমন নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা এটা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এটা করতে হবে, বিচারবিভাগীয় সংস্কার এটা অবশ্যই করতে হবে। এই তিনটা অবশ্যই করতে হবে। সরকার ছয়টা সংস্কার কমিশন করেছে। ছয়টার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই তিনটা। এই তিনটা তো আমরা সংস্কার করতে বলেছি।”
তিনি বলেন, “সংস্কারের যেটা বাস্তবায়নযোগ্য সেটা অবশ্যই হবে। আর যেগুলো বাকি থাকবে সেগুলো পরবর্তী সরকার করবে। এটা তো সরকারেরই কথা, ইউনূস সাহেবেরই কথা।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কেউ যদি অনুসরণ করে সেখানে স্বৈরাচারী হয়ে উঠার আশঙ্কা থাকে না। আপনারা যদি ভালো করে দেখেন গোটা পৃথিবীতে ডানপন্থিদের একটা উত্থান হয়েছে। কিছুদিন আগে বাংলাদেশে জাতিসংঘের মহাসচিব এসেছিলেন, উনার সঙ্গে আমাদের একটা সভা হয়েছিল। কয়েকটা রাজনৈতিক দল ও সংস্কার কমিশনের সদস্যরা ছিলেন। সেখানে মহাসচিব নিজেই বলেছিলেন, গণতন্ত্র এখন খুব বিপদের সম্মুখে। বিভিন্ন দেশে ডানপন্থিদের উত্থান হচ্ছে, কর্তৃত্ববাদের উত্থান হচ্ছে, গণতন্ত্র নিচে নামছে। তারপরেও গণতন্ত্র হচ্ছে শ্রেষ্ঠ ব্যবস্থা শাসনের জন্যে, সুশাসনের জন্যে, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্যে।”
তিনি বলেন, “আমরা একটা জুজুর ভয়ে থাকি যে, রাজনৈতিক দলগুলো স্বৈরাচার হয়ে ওঠে। স্বৈরাচার হয়ে উঠলে তো আওয়ামী লীগের মত অবস্থা হবে। এখানে স্বৈরাচার হয়ে উঠলে জনগণই তাদের বের করে দেয়। সুতরাং এটার জন্য গণতন্ত্রের কোনো দোষ না। গণতন্ত্র অবশ্যই বেস্ট সিস্টেম। আমাদের দেশের কালচার অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার বেস্ট সিস্টেম। তা না হলে আওয়ামী লীগের মত স্বৈরাচার-ফ্যাসিবাদের উত্থান হয়। আমাদের সময় সেই ধরনের স্বৈরাচার-ফ্যাসিবাদ বা কর্তৃত্ববাদের উত্থান হয়নি।”
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ উপস্থিত ছিলেন।