Published : 24 Apr 2026, 01:05 PM
পাটের বীজ বপনের মৌসুমে সেচ কাজের জন্য ডিজেল-বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকায় বিপাকে পড়েছেন ফরিদপুরের চাষিরা। সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় পাট উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
তবে কৃষি বিভাগ বলছে, মৌসুমে দুই-একটি ভারি বৃষ্টিপাত হলেই চলমান সংকট কেটে যাবে।
জেলার সালথা ও নগরকান্দার কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, সময়মতো পানি না দিতে পারলে পাটের আবাদে এর প্রভাব পড়বে।
এছাড়াও পাটের বীজ বপনের সময় মাটিতে কিছুটা জো (নরম বা ভিজা) থাকতে হয়, এতে বীজটি ভালোভাবে অংকুরিত হতে পারে। আর জমিতে জো না থাকলে বীজ ভালোমতে গজায় না।

বোয়ালমারীর পাট চাষী পরিতোষ কিত্তুনিয়া, মনিরুলজ্জামান, মিজানুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন বলেন, তীব্র গরমে ক্ষেত ফেটে চৌচির। এর মধ্যে বিদ্যুতের লোডশেডিং, তার উপর আবার চাষিদের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল মানে ডিজেলও ঠিকমতো মিলছে না। ফলে জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে না।
এছাড়াও পানির লেয়ার ভূগর্ভের অনেক নিচে নেমে গেছে, বাজারে রয়েছে সারের সংকট। সব মিলেকৃষি কাজ করা এখন তাদের কাছে কঠিন হয়ে পড়ছে।
ফরিদপুরের আর্দশ চাষি সাহেদা বেগম বলেন, বিদ্যুৎ-ডিজেলের এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে পাটসহ অনান্য ফসল উৎপাদন কমে গিয়ে দেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ফরিদপুর কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি রবি মৌসুমে ফরিদপুর জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে। এই সময় চাষীরা ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ তোলার সঙ্গে সঙ্গেই সেচ দিয়ে পাট বপন করা শুরু করেন। এর মধ্যে জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রার ৬০ শতাংশ বপন হয়েছে।
কৃষকের এই সংকট এবং ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শাহদুজ্জামান বলেন, “প্রকৃত চাষীদের মাঝে ডিজেল সরবরাহের জন্য আমরা ফুয়েল কার্ড ব্যবহার করা শুরু করেছি, আশা করছি এতে কৃষকের কিছুটা হলেও উপকার হবে।”

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, “চলতি মৌসুমে দুই-একটি ভারী বৃষ্টিপাত হলেই সংকট কেটে যাবে অনেকটা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হাসান মোল্লা বলেন, “কৃষকদের ডিজেল সংগ্রহ সহজ করতে প্রশাসন নির্দিষ্ট কয়েকটি ফিলিং স্টেশন নির্ধারণ করেছে, যাতে সেচ কার্যক্রম চালু রাখা যায়।
“এছাড়াও জেলার অন্য সব পেট্রোল পাম্প মনিটরিং বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি এই সময়টায় পাট চাষীদের সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে।”