সরকারি অর্থ আত্মসাৎ: অভিযোগকারী থেকে আসামি সিভিল সার্জন

তদন্ত শেষে এক মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে দায়ী করে দেওয়া হয় প্রতিবেদন। পরে সিভিল সার্জন সেই কর্মীর বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেন।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Nov 2023, 03:42 AM
Updated : 30 Nov 2023, 03:42 AM

খুলনায় করোনা ভাইরাস পরীক্ষার আড়াই কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অবশেষে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের জালে খুলনার সাবেক দুই সিভিল সার্জন।

অথচ এই ঘটনায় যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, তার নেতৃত্বে ছিলেন দুই সিভিল সার্জনের একজন। তদন্ত শেষে এক মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে দায়ী করে দেওয়া হয় প্রতিবেদন। পরে সিভিল সার্জন নিজেই সেই কর্মীর বিরুদ্ধে করেন সাধারণ ডায়েরি।

সেই তদন্ত প্রতিবেদন ও সাধারণ ডায়েরির কপি পাঠানো হয় দুদকের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ে। সেটি আমলে নিয়ে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি ২০২১ সালের নভেম্বরে সেই ল্যাব টেকনিশিয়ানের বিরুদ্ধে মামলাও করে।

এরপর দুদকের তদন্তে অভিযোগকারী থেকে আসামি হয়ে গেলেন খুলনা ও গোপালগঞ্জের সাবেক সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ।

তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের খুলনার বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ পরিচালক খন্দকার কামরুজ্জামান জানান, গত ২৭ জুলাই দুদক সদ্য ওএসডি হওয়া গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ, খুলনার সাবেক সিভিল সার্জন সুজাত আহমেদ, খুলনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক এস এম মুরাদ হোসেন, দুই মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রকাশ কুমার দাস ও রওশন আলী এবং ক্যাশিয়ার তপতী সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

ওই কর্মকর্তা বলেন, “খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ২০২০ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সিভিল সার্জন সুজাত আহমেদের যোগসাজসে আত্মসাৎ করা হয় ৭৯ লাখ টাকা।

“পরে সুজাত বদলি হলে গোপালগঞ্জ থেকে আসেন নিয়াজ মোহাম্মদ। তিনি ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। অর্থাৎ মোট ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা আত্মসাৎ হয়।”

২০২১ সালের অগাস্টে নিয়াজ মোহাম্মদ ফের গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন হয়ে যান। গত ৭ সেপ্টেম্বর জামিন পাওয়ার দিন তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওএসডি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দুদক কর্মকর্তা জানান, সরকারি রসিদ বইয়ের অনুকরণে বই ব্যবহার করে নমুনা সংগ্রহের টাকা নেওয়া হতো। নমুনাগুলো খুলনা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ল্যাবে পাঠানো হত। তবে যে পরিমাণ নমুনা পাঠানো হত, রোগীর সংখ্যা তার দেখানো হয়।

এক বছরে ফি আদায় হয় ৪ কোটি ২৯ লাখ ৯১ হাজার ১০০ টাকা। তবে সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে ১ কোটি ৬৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ টাকা।

আদালতে অভিযোগপত্র জমার পর নিয়াজ মোহাম্মদ উচ্চ আদালত থেকে ২ সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর খুলনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে পান জামিন।

দুদকের আইনজীবী খন্দকার মুজিবর রহমান বলেন, “নিয়াজ মোহাম্মদকে সাময়িক বরখাস্ত না করে ওএসডি করায় আমরা বিস্মিত হয়েছি। এখানে আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে।”

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আলমগীর কবীর বলেন, “আমি নির্দেশিত প্রজ্ঞাপনে সই করেছি মাত্র।

[প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেসবুক লিংক]