Published : 30 Sep 2025, 10:23 PM
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার একটি মাদ্রাসায় একাধিক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
সোমবার রাতে উপজেলার ‘বকুলতলা আল-কারীম ক্বিরাআতুল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ পরিদর্শনের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারুক আহমেদ।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছে বলে জানান বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম।
ইউএনও ফারুক আহমেদ বলেন, “মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার শিশুদের অভিভাবকদের মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি। আপাতত মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
“মামলা হলে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা যদি মনে করেন, মাদ্রাসা পুনরায় চালু করা হবে। তারা যদি সংশোধন হয় চালু হবে। তা না হলে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।”
এলাকাবাসী জানান, শিক্ষক আব্দুল রহমান মাদ্রাসার আবাসিক কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নিপীড়ন করে আসছিলেন বলে শোনা গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় বিষয়টি ব্যাপক ছড়ালে এলাকাবাসী মাদ্রাসায় জড়ো হয়। তখন আব্দুর রহমান পালিয়ে যান।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রহিম বলেন, “মাদ্রাসায় ৫০ জন ছাত্র রয়েছে। কিছু ছাত্রকে প্রাইভেট পড়ানোর কথা বলে মাদ্রাসায় রেখে দেওয়া হয়। রাতে তাদের যৌন নির্যাতন করতেন আব্দুল রহমান। এ কারণে ছাত্ররা মাদ্রাসায় যেতে চাইতো না। অভিভাবকরা মারধর করে মাদ্রাসায় পাঠাতো।
“এর মধ্যে এক ছাত্র বিষয়টি প্রকাশ করে দেয়। তখন এলাকাবাসী মাদ্রাসায় গেলে শিক্ষক পালিয়ে যায়। বিষয়টি ইউএনওর কাছে জানানো হলে, তিনি এসে মাদ্রাসা তালাবদ্ধ করে দেন। মাদ্রাসার সব শিক্ষকে ইউএনওর সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়েছে।”
এ বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামকে মোবাইল করা হলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে সংযোগ কেটে দেন।
ওসি আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। দুপুরে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।