Published : 24 Jul 2026, 07:29 PM
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযানে উদ্ধার হওয়া একটি প্রাইভেটকার ও মাদকের চালান টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ওই চার পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানান হাতীবান্ধা থানার ওসি আশরাফুজ্জামান সরকার।
ক্লোজড হওয়া চার পুলিশ সদস্য হলেন- হাতীবান্ধা থানার এসআই তুহিন, এসআই রিমন মিয়া এবং এএসআই আব্দুল হাকিম ও লুৎফর রহমান।
স্থানীয়রা জানান, ১৭ জুলাই দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাতীবান্ধা উপজেলার বোর্ডের হাট বাজারের পূর্ব পাশে এক মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালায় ওই চার পুলিশ সদস্য। অভিযানে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল এবং বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা এসব আলামত থানায় না নিয়ে ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কয়েকজনের উপস্থিতিতে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রাইভেটকার ও মাদকের চালান ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে বিষয়টি জানাজানি হয়।
স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, এএসআই আব্দুল হাকিম এক ইউপি কর্মচারীর মোবাইল ফোন থেকে সিসিটিভি মনিটরিং অ্যাপ মুছে দেন।
এর পরদিন ভবানীপুর গ্রামে আরেকটি অভিযানে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পুলিশ সদস্যরা ফিরে যান বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। পরে বিষয়টি থানায় জানাজানি হয়।
এলকাবাসীর অভিযোগ,পুলিশ সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যাবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে টাকা নিতেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই তুহিন বলেন, “বাদ দেন তো ভাইজান, এগুলো ছোট ঘটনা। এগুলো নিয়ে লেখালেখি করলে আমাদের ক্ষতি হবে। আসেন, আমরা সবাই বসে একটা সুরাহা করি।”
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি তার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বলেন, “মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের সদস্য হলেও কোনো ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”