Published : 05 Jan 2026, 09:47 PM
সুন্দরবনে ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া বাঘিনিকে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বাঘিনিটি এখনো পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন সোমবার বনবিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানান। তিনি বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রাণীটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
রোববার দুপুরে বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তায় ‘ট্রানকুইলাইজার গান’ ব্যবহার করে বাঘিনিটিকে অচেতন করা হয়। এরপর ফাঁদ কেটে উদ্ধারের পর লোহার খাঁচায় করে খুলনায় নিয়ে আসা হয়।
বন কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ বলেন, “বাঘিনিটি সম্ভবত শুক্রবার রাত বা শনিবার সকালে হরিণ শিকারের জন্য পাতা ছিটকা ফাঁদে আটকা পড়ে। ছিটকা ফাঁদে যত বেশি নড়াচড়া করা হয়, ফাঁদ তত কষে যায়। মুক্ত হতে গিয়ে বাঘিনিটি নড়াচড়া করায় ফাঁদ আরও শক্ত হয়ে পায়ে আঘাত লাগে।”
শনিবার দুপুরের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বৈদ্যমারী ও জয়মনি বাজারের মধ্যবর্তী সুন্দরবনের পূর্ব অংশের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির আওতাধীন শরকির খাল পাড়ের বনে বাঘিনীটি ফাঁদে আটকে পড়ার খবর পায় বনবিভাগ।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনার বিভাগীয় বনকর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, বাঘিনির চিকিৎসার জন্য গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি অফিসার জুলকার নাইম খুলনায় এসেছেন। বাঘিনিটির সুস্থতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
“প্রয়োজনে এটিকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হতে পারে। অথবা সুস্থ হলে যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানেই অবমুক্ত করা হবে।”
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি অফিসার জুলকার নাইম বলেন, “ফাঁদে আটকে বাঘিনিটির পা বেশি ক্ষতি হয়েছে। কয়কটি টিস্যু কেটে গেছে। সেখানে পচন ধরতে পারে। তা থেকে গ্যাগরিনের সম্ভাবনা রয়েছে। ও ফাঁদ মুক্ত হতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। কিন্তু ফাঁদ অনেক মজবুত ছিল। তাই ছিঁড়তে পারেনি। জোরাজুরির কারণে ফাঁদ আরও কষে পায়ে ক্ষত তৈরি করেছে।”
ভেটেরিনারি অফিসার বলেন, “খুলনায় রেখে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে আবার বনের ওই জায়গাতেই বাঘিনিটিকে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ, সাফারি পার্কে নেওয়া হলে একে বনে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা কম। আমরা চাই, বাঘিনিটি সুন্দরবনে ফিরে যাক।”
তিনি বলেন, “সুন্দরবনের মধ্যে যে অংশে বাঘিনিটি আটকা পড়ে সেখানে তিনবার ‘ট্রানকুইলাইজার গান’ দিয়ে ইনজেকশন ছোড়া হয়েছে। প্রতিবার তিন এমএল করে মেডিসিন দেওয়া হয়েছে।
“প্রথম দুবার ছোড়া ট্রানকুলাইজার টার্গেট মিস হয়। তৃতীয় বার ছোড়া সফল হয়। বাঘিনিটি দুর্বল থাকায় কম মেডিসিন দেওয়া হয়। অচেতন হওয়া বাঘিনিটির আধা ঘণ্টায় জ্ঞান ফেরে। এর মধ্যে খুলনায় আনার পরিকল্পনা থেকে আবারও ইনজেকশন দেওয়া হয়।
জুলকার নাইম বলেন, “খুলনায় এনে খাঁচামুক্ত করা হলে বাঘিনিটির জ্ঞান ফেরা অবস্থায় দেখা যায়। বাঘিনিটিকে খাবার দেওয়া হয়েছে এবং সে খাবার গ্রহণের চেষ্টাও করেছে। স্যালাইন ওয়াটারসহ খাবারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় মেডিসিনও দেওয়া হয়েছে।”