Published : 17 Jan 2026, 01:21 PM
পার্বত্য চট্টগ্রাম ভিত্তিক আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ তৈরি হয়েছে; যা দলটির নেতাদের একপক্ষের বক্তব্যে আভাস মিলেছে।
শুক্রবার বিকালে দলটির সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি চাকমার নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতি ছড়ানো হয়। যদিও তাতে অমল কান্তি চাকমার স্বাক্ষর ছিল না।
এতে সংগঠনটির বিলুপ্তির কথা বলে বলা হয়, দলের সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা এরই মধ্যে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসে যোগদান করেছেন। তার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে দলের আরও অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মীও যোগ দিয়েছেন।
শনিবার সকালে খাগড়াছড়ির মধুপুর বাজারে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দল বিলুপ্তির বিষয়টি অসম্পূর্ণ অস্বীকার করেন সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি চাকমা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার কথা আপনারা হয়তো জেনেছেন; যা সোশাল মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে। দলের সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা (তরু) এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিটন চাকমা দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ সর্বোপরি অর্থ উপার্জনের জন্য ইয়াবা উৎপাদন করে বাজারজাতকরণসহ আরও নানা ধরনের সংগঠনের গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কাজে লিপ্ত হয়ে দলীয় পদবি হারানোর ভয়ে অনুগত ২০-২৫ জন সদস্য নিয়ে খাগড়াছড়ি ছেড়ে চলে যান।
“বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারলাম, শ্যামল তার অনুগত সদস্যদের নিয়ে সন্তু লারমা সমর্থিত জনসংহতি সমিতির কাছে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। একটি ফেইসবুক আইডি থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি চাকমার নাম ব্যবহার করে সোশাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি প্রদান করা হয়; যা বানোয়াট ও বিভ্রান্তিমূলক। সেখানে ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক দল বিলুপ্ত করার মত একটি গঠনতন্ত্র বহির্ভূত ঘোষণাও দেওয়া হয়।”

সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি চাকমা বলেন, “কেন্দ্রীয় কমিটির শ্যামল কান্তি চাকমা ও মিটন চাকমা ব্যতীত বাকি সব সদস্য বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থান করছেন। তাছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির অধিকাংশ সদস্যের সম্মতি ছাড়া এরকম ঘোষণা একেবারেই অবান্তর।”
তিনি বলেন, “আমরা এই ঘোষণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক দল বিলুপ্ত হয়নি এবং দলের কার্যক্রম আগের মতই চলবে।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক এর সহসভাপতি সমীরণ চাকমা (চারমিং) এখন থেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ বিষয়ে জানতে শ্যামল কান্তি চাকমা তরুর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু সেটি বন্ধ দেখাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক অমর জ্যোতি চাকমা, কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপন চাকমা, কেন্দ্রীয় সদস্য সবিনয় চাকমা উপস্থিত ছিলেন।
২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম ‘শান্তি চুক্তি’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রসীত খিসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ থেকে বের হয়ে তপনজ্যোতি চাকমা ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক গঠন করেন।
২০১৮ সালে তপন জ্যোতি চাকমাসহ পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় আরও আটজন গুলিবিদ্ধ হন। এরপর থেকে শ্যামল কান্তি চাকমা সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।