Published : 26 Apr 2026, 04:39 PM
দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যখন ভ্যাপসা গরমে কাহিল, তখন ঠিক উল্টা চিত্র উত্তরের বিভাগ রংপুরে। এ বিভাগের রংপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রামে চলছে একটানা মেঘের গর্জন আর অবিরাম বৃষ্টি।
এর মধ্যে রংপুরে রোববার বেলা ১২টার আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা আবহাওয়া অফিসের সহকারী পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান। যা গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৪৭ মিলিমিটার ও ডিমলায় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হোসেন হাকিম।
এছাড়া দিনাজপুরে ৩৩ মিলিমিটার, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৩৩ মিলিমিটার ও কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে আবহাওয়া অফিসের তথ্যে জানা গেছে।
নীলফামারী জেলায় শনিবার রাত ১২টার পর থেকে দমকা হাওয়া শুরু হয়। পরে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয় রাত ১টার পর। যা রোববার দুপুর ৩টা পর্যন্তও জেলার বিভিন্ন স্থানে চলমান আছে বলে জানা যায়।
এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। ফসলী জমিতে পানি জমে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন চাষিরা।
নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সর্তকীকরণ কেন্দ্রের গেজ রিডার নুরুল ইসলাম বলেন, শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারেজে পানির লেভেল ছিল ৫০ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার। ২৫ সেন্টিমিটার বেড়ে রোববার সকাল ৯টায় তা ৫০ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটারে পৌছেছে।
এই পয়েন্টে তিস্তার বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।
তিনি আরও বলেন, “তিস্তার উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া গিয়েছে। আমরা নজরদারী করছি। ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।”
নীলফামারী জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম জাকারিয়া বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত নীলফামারী সদরে ৫৮ মি.মি, তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে ১৮ মি.মি ও তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানি কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে রোববার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হতে পারে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
এর প্রভাবে রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪-৮৮ মিলিমিটার/২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারী (১৮৮ মিলিমিটার/২৪ ঘন্টা) বর্ষণ হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে এসব এলাকার কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতাও তৈরি হতে পারে।
ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীর চরখড়িবাড়ি এলাকার কৃষক ইসমাঈল হোসেন, ঝাড় সিংহেশ্বরের হারুন মিয়া সহ অন্যান্য চরের কৃষকরা বলেন, চরের জমিতে বর্তমানে ভুট্টা, বাদাম, মরিচ, বোরো ধান, মিষ্টিকুমড়া, শাক-সবজি রয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ফসলের ব্যপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তার পানি বৃদ্ধির আগেই চরের কৃষকদের ফসল ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।