১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আজাদ কাশ্মীরের প্রথম ধাপের নির্বাচনের পর পিপিপি ও পিএমএল-এন বাকযুদ্ধ

ভোট গণনার অনানুষ্ঠানিক ফলে দেখা গেছে, ১৩টি আসনের মধ্যে পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) ৯টিতে জয় পেয়েছে। বাকি চারটি আসন জিতেছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি।

আজাদ কাশ্মীরের প্রথম ধাপের নির্বাচনের পর পিপিপি ও পিএমএল-এন বাকযুদ্ধ
পাকিস্তানের পতাকা। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jul 2026, 10:36 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) আইনসভার নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট গণনার ফল আসতে শুরু করার পর কারচুপির অভিযোগ, সহিংসতা এবং পাল্টাপাল্টি বাকযুদ্ধে জড়িয়েছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এবং পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) পিএমএল-এন।

কোটলি জেলায় সংঘর্ষে এক পিপিপি কর্মী নিহত হওয়ার পর দুই দল একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তোলে। ভোট গণনার অনানুষ্ঠানিক ফলে দেখা গেছে, ১৩টি আসনের মধ্যে পিএমএল-এন ৯টিতে জয় পেয়েছে। বাকি চারটি আসন জিতেছে পিপিপি।

পিপিপি-র চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারির অভিযোগ, পিএমএল-এন এর প্রার্থীর সমর্থকদের গুলিতে তাদের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। তাছাড়া নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপিও হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

 পিপিপি নেতা নায়ার বুখারি বলেন, ‘‘সেনার সহায়তায় ভোটে কারচুপি করে জিতেছে মুসলিম লিগ (নওয়াজ)।’’

ওদিকে, পিএমএল-এন নেতা রানা সানাউল্লাহ ও অন্যান্য নেতারা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সামগ্রিকভাবে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে।

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের আইনসভায় ৪৫টি আসনের নির্বাচন ২৭ জুলাই থেকে ১০ অগাস্ট পর্যন্ত তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২৭ জুলাই প্রথম দফায় ১৩টি আসনে ভোট হয়েছে।

কিন্তু পাকিস্তানের ‘দ্য ডন’ পত্রিকা জানায়, পিপিপি ও পিএমএল-এন দুই দলই নির্বাচনে অনিয়ম করেছে বলে একে অপরকে দোষারোপ করছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত হয় প্রাদেশিক আইনসভার প্রথম দফায় ভোট হওয়া ১৩টি আসনের ফল। এতেই এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন কে।

পিপিপি ও পিএমএল-এন উভয় দলই পাকিস্তান সরকারে জোটসঙ্গী হলেও এই নির্বাচনে দু’দলের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে ৷ কারণ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এই নির্বাচনে লড়ছে না ৷

অনানুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ্যে আসার পর সাতটি আসনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে পিপিপি ৷ দলের প্রবীণ নেতা নায়ার বুখারি বলেছেন, “আমাদের জয়ী আসনগুলো পিএমএল-এন কে উপহার হিসেবে দিয়ে দেওয়া হয়েছে ।”

পিপিপি-র অন্যান্য প্রবীণ নেতারা দাবি করেছেন, নির্দিষ্ট কিছু নির্বাচনী এলাকায় কারচুপির ঘটনা খতিয়ে না দেখা পর্যন্ত যেন নির্বাচন কমিশন ফল ঘোষণা না করে ।

তবে পিএমএল-এন এর নেতা রানা সানাউল্লাহ নির্বাচনের ফলে সন্তোষ প্রকাশ করে বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছিল।