Published : 24 May 2026, 02:51 PM
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে হাজিরা দিতে যাওয়া ইউনিয়ন পর্যায়ের এক বিএনপি নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনায় ওই বিএনপি নেতা অক্ষত থাকলেও তার চাচাতো ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন।
আদালতের পাশেই পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা জজের বাসভবন ও জেলা পরিষদ ভবন। ঘটনাস্থল থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিনসহ এক যুবককে আটকের খবর জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি মোহাম্মদ আলী বলেন, “ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে এসেছিলেন। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তিনি সরে গেলে পাশের একজন গুলিবিদ্ধ হন।”

গুলিবিদ্ধ মঈন উদ্দিনের বাড়ি কক্সবাজার শহরের লিংক রোড এলাকায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল থেকে আটক জিয়াউল হক জিয়ার বাড়ি ঈদগাঁও উপজেলার কালিরছড়া এলাকায়। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, নয় রাউন্ড গুলি ও চারটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, “এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগেও লিয়াকত আলীর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।”
তবে হামলায় আর কারা জড়িত, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি এ পুলিশ কর্মকর্তা।

ঘটনার সময় অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অবস্থান করছিলেন।
তিনি বলেন, “হঠাৎ পূর্ব দিক থেকে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনি। পরে জানালা দিয়ে দেখি, একটি সাদা রঙের দামি গাড়ির পাশে দুইজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। একজন দৌড়ে আদালতের ভেতরে ঢুকে যায়।”
তার ভাষ্য, “পরে পুলিশ হালকা গড়নের এক যুবককে ধরে গাড়িতে তোলে। শুনেছি তার কাছ থেকে বিদেশি রিভলভার ও ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়েছে।”
আব্দুর রশিদ বলেন, “সম্ভবত জহির হত্যা মামলার সাক্ষ্য দিতে আসা পক্ষগুলোর মধ্যে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। “আদালত তো সবার জন্য নিরাপদ জায়গা হওয়ার কথা। কিন্তু আদালত প্রাঙ্গণে যদি এভাবে দিবালোকে গুলি চলে, তাহলে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও বিচারক-কেউই নিরাপদ নন।”

তিনি আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রবেশপথে নিয়মিত তল্লাশি চৌকি বসানোর দাবি জানান।
কতগুলো গুলি ছোড়া হয়েছে জানতে চাইলে এই আইনজীবী বলেন, “পাঁচ-ছয় রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছি। খুব দ্রুতগতিতে গুলি হচ্ছিল।”
তিনি বলেন, “পুলিশ সুপারের কার্যালয় আর আদালতের মাঝখানে এ ধরনের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। এটা কক্সবাজারের জন্য লজ্জাজনক।”