বসবাসকারী স্থানীয়রা বলছেন, পাহাড় ধসের আতঙ্ক থাকলেও বাধ্য হয়েই এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস করছেন তারা।
Published : 20 Aug 2024, 04:22 PM
টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টিতে খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসের শঙ্কায় রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার। এর মধ্যেই পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে জেলার সবুজবাগ, শালবাগান, কুমিল্লটিলা, কলাবাগানসহ শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের শঙ্কা রয়েছে। এ সব এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে ও পাহাড়ের উপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দিয়ে মাইকিং করা হয়েছে।
এছাড়া পাহাড় ধসের বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে মানিকছড়ি, রামগড়, দীঘিনালা, মাটিরাঙাসহ বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দারাও।
তবে বসবাসকারী স্থানীয়রা বলছেন, পাহাড় ধসের আতঙ্ক থাকলেও বাধ্য হয়েই এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস করছেন তারা।
খাগড়াছড়ির সবজুবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. আসিফ সরকার ও ফরহাদ হোসেন বলেন, “টানা বৃষ্টি হচ্ছে। মধ্যে মধ্যে পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ছে। খুব আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছি। বৃষ্টি হলে রাতের বেলায় ভয়ে ঘুম আসে না।”
শালবন এলাকার বাসিন্দা মাইন উদ্দিন বলেন, “বছরের পর বছর পাহাড়ে মানুষ ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিকল্প কোনো বসবাসের জায়গা নেই তাই এখানে থাকছে।
তিনি বলেন, “দুর্যোগকালীন সময় পাহাড়ের পাদদেশ থেকে সরে যাওয়ার জন্য বলা হলেও এরপর আর কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।”
খাগড়াছড়ির প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম জানান, “গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে।”
এদিকে পাহাড় ধসে যাতে যান চলাচল বিঘ্নিত না হয় সেজন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাকসুদুর রহমান।
তিনি জানান, খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, দীঘিনালা-মারিশ্যা সড়ক ও মহালছড়ি-সিন্দুকছড়ি সড়কে পাহাড় ধস মোকাবেলায় কাজ করছে সড়ক বিভাগ।
তিনি বলেন, “পাহাড় ধস মোকেবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। ফায়ার সার্ভিসের সহোযোগিতা খুব প্রয়োজন। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগের ভূমিকাও জরুরি। সম্প্রতি পাহাড় ধসে গাছের সঙ্গে বিদ্যুতের পোলও সড়কের উপর চলে এসেছে।
পাহাড়ের ধসে পরা মাটি যাতে দ্রুত অপসারণ করা যায় সেজন্য জনবল এবং সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাকের হোসেন বলেন, “পাহাড় ধসের খবর পাওয়ার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে আমার টিম মুভ করে।
“তবে আমাদের সরঞ্জাম ঘাটতি থাকায় বড় কোনো পাহাড় ধস হলে সড়ক বিভাগের সহযোগিতা নিই। তাদের পেলোডার দিয়ে দ্রুত মাটি সরানোর কাজ করি। এছাড়া বড় গাছ কাটলে গেলে বন বিভাগের সহযোগিতা নিতে হয়।”
এদিকে পাহাড় ধসের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং দুর্যোগ কবলিতদের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসনক মো.সহিদুজ্জামান বলেন, “টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের শঙ্কা রয়েছে। সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে।”
পাহাড় ধসে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “সংকট মোকাবেলায় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।”