ফরিদপুরে ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে জখম: গ্রেপ্তার দুজনের জামিন

গ্রেপ্তার আরও একজনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ফরিদপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Sept 2022, 03:34 PM
Updated : 20 Sept 2022, 03:34 PM

অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে ফরিদপুরে ছাত্রলীগ কর্মী সৌরভ মালোকে কুপিয়ে জখমের মামলায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ; এর মধ্যে দুজন জামিন পেয়েছেন। 

রোববার রাতে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে পূর্বদিকের সড়কে সৌরভ মালোকে (২৪) কুপিয়ে জখম করা হয়। সোমবার তিনি বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও পাঁচ থেকে সাত জনকে আসামি করে মামলা করেন।

এর পরই শহরের আলীপুরের আশরাফুল হাসান ওরফে প্রলয় (২৭), গুহ লক্ষ্মীপুরের মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে পর্বত (২৫) এবং লক্ষ্মীপুরের সৈয়দ হাকিম উদ্দিন ওরফে শান্তকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয় বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার এসআই সুজন বিশ্বাস জানান।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার বিকালে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে ফরিদপুরের এক নম্বর আমলি আদালতে হাজির করা হয়। আসামি পক্ষের আইনজীবী তিন জনের জামিন আবেদন করেন। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. ফারুক হোসেন দুই জনের জামিন মঞ্জুর করেন। বাকি একজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আসামি পক্ষের আইনজীবী জাহিদ ব্যাপারি বলেন, “আদালতে পুলিশ আসামিদের রিমান্ডের আবেদন জানায়নি। তবে আমরা তিন জনের জামিনের আবেদন জানাই। শুনানি শেষে আদালত আশরাফুল হাসান ওরফে প্রলয়, মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে পর্বতের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে সৈয়দ হাকিম উদ্দিন ওরফে শান্তর জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন।”

আহত ছাত্রলীগ কর্মী সৌরভ মালো (২৪) শহরের লক্ষ্মীপুর মহল্লার উত্তম মালোর ছেলে। তিনি ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ জানায়, সৌরভ মালোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পোচ দিয়ে আহত করা হয়েছে। তার মুখ, মাথা ও হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তিনটি মোটরসাইকেলে ছয় তরুণ এই হামলায় অংশ নিয়েছে।

সৌরভের দায়ের করা মামলায়, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) শহরের পূর্ব খাবাসপুর মহল্লার বাসিন্দা কাওসার আকন্দকে (৩৫) এক নম্বর আসামি করা হয়েছে।

এ ছাড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলীপুরের আশরাফুল হাসান ওরফে প্রলয় (২৭), আলীয়াবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি বিল মুহমুদপুর মহল্লার তোফাজ্জেল হোসেন সম্রাট (৪০), জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দক্ষিণ আলিপুরের আলী আজগর মানিকও (৪৮) মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার এক নম্বর আসামি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাওসার আখন্দ বলেন, “ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মারামারি, কোপাকুপির ঘটনা ঘটছে। ওরা নিজেরা নিজেরা ভেজাল কইরা ঝামেলা কইরা বেড়াচ্ছে।

“এর সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার জন্য এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলেই এ বিষয়টি বের করতে পারবে।”

জেলা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রলীগের জেলা সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান এবং সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদের অনুসারীদের মধ্যে বিভেদ রয়েছে।  এর জেরে শহতলীর বায়তুল আমান এলাকায় এ বছরের ৪ জুলাই ছাত্রলীগ কর্মী সবুজ মোল্লাকে (২৮) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। 

এ হত্যা মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদকে আসামি করা হয়। এবং তিনি বেশ কিছুদিন ফরিদপুরের বাইরে ছিলেন। সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি শহরে ফিরেন।   

১১ সেপ্টেম্বর রাতে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদ ভবনে দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাও নেন। পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর আহতদের মধ্যে এ বি এম ফয়সাল ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। সৌরভ মালো ওই মামলার চার নম্বর আসামি।

আরও পড়ুন:

Also Read: রাজেন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে জখম

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক