রাজেন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে জখম

সৌরভ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির অনুসারী হিসেবে পরিচিত

ফরিদপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Sept 2022, 03:27 PM
Updated : 19 Sept 2022, 03:27 PM

ফরিদপুরে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।

রোববার রাত ১০টার দিকে শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে বলে কোতোয়ালী থানার ওসি এম এ জলিল জানান। 

ছাত্রলীগ কর্মী সৌরভ মালো (২৪) শহরের লক্ষ্মীপুর মহল্লার উত্তম মালোর ছেলে। তিনি ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার সোমবার বলেন, “সৌরভ মালোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পোচ দিয়ে আহত করা হয়েছে। তার মুখ, মাথা ও হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।” 

“পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, তিনটি মোটরসাইকেলে ছয় তরুণ এই হামলায় অংশ নিয়েছে।” 

জেলা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রলীগের জেলা সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান এবং সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদের অনুসারীদের মধ্যে বিভেদ রয়েছে।  এর জেরে শহতলীর বায়তুল আমান এলাকায় এ বছরের ৪ জুলাই ছাত্রলীগ কর্মী সবুজ মোল্লাকে (২৮) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। 

এ হত্যা মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদকে আসামি করা হয়। এবং তিনি বেশ কিছুদিন ফরিদপুরের বাইরে ছিলেন। সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি শহরে ফিরেন।   

১১ সেপ্টেম্বর রাতে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদ ভবনে দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাও নেন। পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর আহতদের মধ্যে এ বি এম ফয়সাল ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। সৌরভ মালো ওই মামলার চার নম্বর আসামি। তিনি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির অনুসারী হিসেবে পরিচিত।  

কোতোয়ালী থানার ওসি এম এ জলিল বলেন, সৌরভ মালোকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের তিনজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক কাওসার আখন্দ বলেন, “জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্যের অনুসারী। 

“তাদের নিজেদের মধ্যে কী নিয়ে ঝামেলা হইলো তা আমার জানা নেই। এখন ওরা নিজেরা নিজেরা ভেজাল কইরা ঝামেলা কইরা বেড়াচ্ছে।” 

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক