Published : 23 Jul 2025, 05:32 PM
ঘাস আর ফসলের ক্ষেতে বিন্দু বিন্দু শিশির; কুয়াশায় আছন্ন চারপাশ। সড়কে গাড়িও চলেছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।
বর্ষাকালের এ সময়ে দেশের উত্তরবঙ্গের জেলা পঞ্চগড়ে এমন দৃশ্যের দেখা মিলেছে।
মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার ভোর ৫টা পর্যন্ত এ জনপদে শীতের আমেজ অনূভূত হয়েছিল বলে জানান স্থানীয়রা।
সদর উপজেলার আলমগীর জলিল বলেন, “গত ৫০ বছরেও বর্ষাকালে কুয়াশার দেখা মেলেনি।”
সরেজমিনে দেখা যায়, বুধবার ভোরে কুয়াশার কারণে ঘাস ও ফসলের ক্ষেতে শিশির বিন্দু জমেছিল; যা শীতকালের আবহাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। পঞ্চগড়ের বাসিন্দারা অন্যরকম এ সকাল বেশ উপভোগ করেছেন।

সকাল ৬টার পর ঝলমলে রোদের দেখা মেলে; তাপমাত্রা বেড়ে বাড়তে শুরু করে গরম।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, মৌসুমী বায়ু অতিরিক্ত সক্রিয় হওয়ায় এবং বায়ুমণ্ডলে ধূলিকণার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে কুয়াশা দেখা যায়। একইসঙ্গে তা হালকা বৃষ্টিতে রূপ নেয়, তবে তা রেকর্ডযোগ্য পরিমাণ নয়।
সদর উপজেলার কৃষক মজিবর রহমান বলেন, “ভোরবেলা যখন ঘুম থেকে উঠি চারিদিকে খুব ঘন কুয়াশা দেখতে পাই। বর্ষাকালে এমন দৃশ্য দেখা যায় না।
“তবে আমরা পূর্বপুরুষদের কাছে শুনেছি বর্ষাকালে কুয়াশা দেখা গেলে নাকি বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়।”
তিনি বলেন, “গত কিছুদিন ধরে বৃষ্টির অভাবে ভালোভাবে রোপা আমন লাগাতে পারছি না। বৃষ্টির খুবই প্রয়োজন।”

শহরের ইজিবাইক চালক মামুন বলেন, “সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখি চারদিক কুয়াশায় ঢেকে গেছে। গাড়িগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে। অথচ ভ্যাপসা গরমও রয়েছে। বর্ষাকালে এমন কুয়াশা আগে চোখে পড়েনি।”
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, বুধবার সকাল ৬টা ও ৯টা পর্যন্ত পঞ্চগড়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
এর আগের দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ভ্যাপসা গরম অব্যাহত থাকলেও ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এ আবহাওয়া কর্মকর্তা।