Published : 30 Nov 2025, 07:31 PM
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী সিনিয়রদের বিরুদ্ধে ‘র্যাগিংয়ের’ অভিযোগ দিয়েছেন।
রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে এই লিখিত অভিযোগ দেন একাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী আল শাহারিয়ার মোহাম্মদ মুস্তাকিম মজুমদার।
তিনি পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিজ ফারদিন আকন্দ স্বপ্নীল, মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন, ইমন মাহমুদ, নেহাল আহমেদ ও মিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২৬ নভেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সিনিয়রদের নির্দেশে রুপাতলী হাউজিং মাঠে উপস্থিত হন ২৮ শিক্ষার্থী। পরে তারা রাত সাড়ে ৯টার বাসে করে টোল প্লাজার কাছে অবস্থিত নেহাল আহমেদের বাসায় নিয়ে যায়। বাসায় প্রবেশের পর তিনতলা কক্ষে উঠিয়ে গেইট আটকে দেয়। এরপর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসহ সব ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে যায়।
“রাত ১১টার মধ্যে বাসার গেইট বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানালেও নেহাল শিক্ষার্থীদের র্যাগ দেওয়ার জন্য শামীম ও স্বপ্নীলের কাছে তুলে দেয়। স্বপ্নীল জুনিয়র শিক্ষার্থীকে জঘন্য ভাষায় কবিতা আবৃত্তি করতে দেয়। কবিতা আবৃত্তি না করলে অকথ্য ভাষায় গালি দেয়। তখন কেঁদে ফেললে ফ্লোরে বসে ১০ মিনিট কান্না করার হুকুম দেয়।
“এ ছাড়া অন্য সহপাঠীদের নিয়ে আপত্তিকর দৃশ্যের অভিনয় করার নির্দেশ দেয়। এ থেকে বাঁচতে চলে আসতে চাইলে শামীম লাঠি নিয়ে মারতে উদ্যত হয়। তখন বাধ্য হয়ে হাঁটু গেড়ে শামীমের কাছে মাফ চাইতে হয়।”
অভিযোগে আরও বলা হয়, “এ ছাড়া শিক্ষার্থীকে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা ও নাচার নির্দেশ দেয়। তখন প্রশ্রাবের কথা বললে সবার সামনে বোতলে প্রশ্রাব করার নির্দেশ দেয়। এমনকি শার্ট খুলতেও বাধ্য করে কুকুরের মত বিস্কুট চেটে খেতে নির্দেশ দেয়।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন বলেন, “আমরা জুনিয়রদের নিয়ে পিকনিক করছিলাম। সেখানে একটু রাগারাগি হইছে। র্যাগিং দেওয়া হয়নি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। র্যাগিংয়ের বিষয়ে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’। আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”