‘যৌন হয়রানি’, কুষ্টিয়ায় ছাত্রলীগ নেতা-নেত্রীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নওরিনের অভিযোগ, তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার এজাহার দিলেও থানায় তা পর্নোগ্রাফি আইনের মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 Sept 2022, 01:27 PM
Updated : 21 Sept 2022, 01:27 PM

কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে একই কমিটির এক নেত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন।

এই ঘটনায় বুধবার এই ছাত্রলীগ নেত্রী এবং ওই ছাত্রলীগ নেতা পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া শহরের বড়বাজারের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক নওরিন রহমান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জের হাত ধরে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেন। তখন থেকে ওই নেতার বাসায় তাকে বিভিন্ন কারণে ডাকতেন। একদিন তার একটি ‘অনৈতিক প্রস্তাব’ তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তখন এই নারীর এক দাদার সঙ্গে তোলা একটি ছবি সংগ্রহ করে শেখ হাফিজ তাকে বাসায় ডেকে দেখান এবং ব্ল্যাকমেইলেল হমকি দিয়ে ‘কু-প্রস্তাব’ দেন।

“তাতেও কাজ না হলে তিনি ‘ভুয়া ফেইসবুক আইডি’ খুলে ওই ছবি খারাপ ভাষায় ক্যাপশন দিয়ে প্রচার করেন। রাস্তায় দেখা হলে শেখ হাফিজের সহযোগীরা আজেবাজে কথাবার্তাসহ নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।”

এ ঘটনায় তিনি জেলা ছাত্রলীগের ছয় নেতার নাম উল্লেখ করে সোমবার [১৯ সেপ্টেম্বর] কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন; মঙ্গলবার তা এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।

নওরিনের অভিযোগ, তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার অভিযোগ দিলেও থানায় তা পর্নোগ্রাফি আইনের মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।

নওরিন বলেন, “তিনদিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো শেখ হাফিজসহ তার সহযোগীরা আমাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। এমনকি তারপর থেকে বিভিন্ন নামে ফেইসবুক আইডি খুলে আমার চরিত্র ও সম্মানহানিকর আজেবাজে লেখা পোস্ট করছে। সুস্থ ও সামাজিকভাবে আমার বেঁচে থাকাকে দুর্বিসহ করে তুলেছে। এ ঘটনার ন্যায় বিচার চেয়ে বার বার পুলিশকে জানালেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।”

“নিজের সম্মান, সভ্রম, মর্যাদা ও নিরাপদ জীবনের চরম হুমকির কোনো প্রতিকার না পেলে আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না,” বলেন নওরিন।

তিনি আরও বলেন, “আমি মঙ্গলবার এসপি আফিসে গিয়েছিলাম; তিনি অফিসে ছিলেন না। আমি এই বিষয়টা জেলা নেতাদের জানিয়েছি, তারা এর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তারা শুধু আমাকে আশ্বাস দিচ্ছেন যে – হ্যা তোমার ব্যবস্থা আমরা করব।”

তিনি প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশ প্রধানের কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করেন সংবাদ সম্মেলনে।

এদিকে, জেলার কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে আসেন সংগঠনের জেলা সভাপতি সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক ও সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক বলেন, “ওই ছাত্রীর এসব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক।”

সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ বলেন, “যে সকল নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছে তা সঠিক নয়। ‘কথিত’ ওই নেত্রী আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। ছাত্রলীগের নেতাদেরও ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “কথিত ওই নেত্রী বিবাহিত, অনেকের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক ও মাদকের সাথে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বিভিন্ন পুরুষের সাথে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। সেসব ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কে বা কারা ছড়িয়েছে তা আমাদের জানা নেই।”

শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জের দাবি, “প্রকৃত অর্থে কুষ্টিয়া জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার আগে বাচাই-বাছাই করতে গিয়ে ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ পেয়েছিলাম; যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটিতে তার নাম দেওয়া হয়নি বলেই ওই ছাত্রী এসব কুৎসা রটনা করছে।”

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, “নওরিন রহমান নামে এক ছাত্রলীগ নেত্রীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনের কাছে সবাই সমান। কাউকে কম বা বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না পুলিশ। ঘটনার সত্যতা পেলে অবশ্যই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক