Published : 04 Jan 2026, 02:12 PM
তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় কাঁপছে যমুনাপাড়ের জেলা সিরাজগঞ্জ। ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে পড়েছে মানুষজন। দুপুর পর্যন্ত দেখা মেলেনি সূর্যের, সড়ক-মহাসড়কে লাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন।
রোববার সিরাজগঞ্জের তাড়াশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, রোববার সকালে জেলায় এ বছরের সর্বনিম্ন ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
অপরদিকে, বাঘাবাড়ী আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়া অফিসার মোস্তফা কামাল বলেন, সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
কনকনে শীতে নিম্ন আয়ের মানুষ কাজে বের হতে পারছে না। কৃষকরা পরিচর্যার জন্য ক্ষেতে যেতে পারছে না। ধানের বীজতলা নষ্টের আশংকা করছেন তারা।
বেশি দুর্ভোগের কবলে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষরা। বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরা শীতের কারনে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালগুলো এ ধরনের রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।
এ অবস্থায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় অনেককে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

রিকশাচালক মোবারক হোসেন জানান, “তীব্র শীত তবুও কাজে বের হয়েছি। কিন্তু যাত্রী নেই। ঠান্ডার কারণে কেউ রিকশায় উঠতে চায় না। জরুরি কাজে বের হলেও তারা হেঁটেই চলাচল করছে।”
দিনমজুর শাহাদত হোসেন বলেন, “শীতের কারণে কোনো কাজকর্ম নেই। বাইরে বের হলেই হাত-পা কাহিল হয়ে যায়। আর্থিক সংকটে সংসার চালানো কষ্ট হয়ে গেছে।”
ট্রাক চালক সোহরাব আলী বলেন, “সড়ক-মহাসড়ক কুয়াশাচ্ছন্ন। দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার শঙ্কা বাড়ছে। ”
লোকাল রুটের বাস চালক মোশারফ হোসেন বলেন, “সকালে বাস নিয়ে বের হয়েছিলাম। পরে যাত্রী না পেয়ে বাস বন্ধ করে বাড়ি চলে যাচ্ছি।”
সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমিন বলেন, “শীতে যতদূর সম্ভব ঘর থেকে কম বের হতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে বের হলে পর্যাপ্ত শীতের কাপড় পরিধান করতে হবে। তা না হলে শীতজনিত রোগ সর্দি-কাশি, হাঁপানি, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টজনিত বেড়ে যেতে পারে।”
এদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল বাছেত বলেন, “ইতোমধ্যে জেলায় প্রায় ২৬ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরও চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে বিতরণ করা হবে।”