Published : 03 Oct 2024, 07:08 PM
জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি জামিনে কারামুক্ত হন বলে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর জে্যষ্ঠ জেল সুপার মো. আমিরুল ইসলাম জানান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে ‘অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্রের’ মামলায় বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এদিন মাহমুদুরের জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ। ওই আবেদনের ওপর শুনানির সময় আসামি কারাবাসে থাকায় আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবী মেজবাহ বলেন, “আমরা সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেছি। সেইসঙ্গে জামিন আবেদন করেছি। বিচারক আপিল আবেদন গ্রহণ করেছেন এবং জামিন মঞ্জুর করেছেন।”
মামলাটিতে গত বছরের ১৭ অগাস্ট মাহমুদুর রহমান, যায়যায় দিনের সাবেক সম্পাদক শফিক রেহমান, জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন, তার ছেলে রিজভী আহাম্মেদ ওরফে সিজার এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভূঁইয়াকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মামুন বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাসাসের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। পরিবার নিয়ে কানেটিকাটের ফেয়ারফিল্ড কাউন্টিতে বসবাস করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায়। তার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সংরক্ষিত গোপন তথ্য পেতে এফবিআইএর এক কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অপরাধে ২০১৫ সালের ৪ মার্চ মামুনের ছেলে রিজভী আহমেদ সিজারকে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয় নিউ ইয়র্কের একটি আদালত।
ওই রায়ের পর জয়কে অপহরণের চক্রান্তের অভিযোগে ২০১৫ সালের ৩ অগাস্ট গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩০৭ ও ১২০ (বি) ধারায় ঢাকার পল্টন থানায় এই মামলা দায়ের করেন।
সেখানে বলা হয়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের আগে মামুনসহ বিএনপি ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত অন্যান্য দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা রাজধানীর পল্টনের জাসাস কার্যালয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার একত্রিত হয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমেরিকায় অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন।
তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার হাসান আরাফাত ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
সেখানে জয়কে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রের ‘নির্দেশদাতা’ হিসেবে শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়। আর আসামি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনের বিরুদ্ধে আনা হয় পরামর্শদাতা হিসেবে ওই ষড়যন্ত্রে সহযোগিতার অভিযোগ।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, মামুনের ছেলে রিজভী আহাম্মেদ যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কাছ থেকে সজীব ওয়াজেদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেন এবং পরে তা অন্য আসামিদের সরবরাহ করেন। আর প্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান এই ষড়যন্ত্রে অর্থ যোগানোর পাশাপাশি পরামর্শদাতা হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
গোয়েন্দা পুলিশ এ অভিযোগপত্র দিলে পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু করে আদালত। সজীব ওয়াজেদ জয়ও ২০২২ সালের নভেম্বরে আদালতে গিয়ে এ মামলায় সাক্ষ্য দেন।
গত বছরের ১৭ অগাস্ট আসামিদের অনুপস্থিতিতে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূর আমার দেশ পত্রিকার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ পাঁচজনকে পৃথক দুই ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেন।
আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।
এর আগে খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান রাষ্ট্রদ্রোহের এক মামলায় ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল ঢাকার কারওয়ান বাজারে আমার দেশ কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার হন।
পরে কারাবান্দি অবস্থায় ২০১৬ সালের এপ্রিলে তাকে জয়কে অপহরণ ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সাড়ে তিন বছর জেলে থাকার পর ২০১৬ সালের নভেম্বরে মাহমুদুর রহমান জামিনে মুক্তি পান। পরে তিনি লন্ডনে চলে যান। সাড়ে ৫ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: