Published : 25 Dec 2025, 07:56 PM
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলায় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যের ভুয়া সিল স্বাক্ষর দিয়ে ১৩ রোহিঙ্গা নাগরিকের জন্মনিবন্ধন তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের এক উদ্যোক্তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রতারণার মামলায় বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে আদালতে মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন।
এর আগে বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সামনের একটি দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কারাগারে যাওয়া মওদুদ আহমেদ শাওন (৩৫) উপজেলার টেংগাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) উদ্যোক্তা ঝর্ণা আক্তারের স্বামী। শাওন তার স্ত্রীর হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের জন্মনিবন্ধনসহ অনলাইনের সব কাজ করতেন।
এ ঘটনায় গাগলাজুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রাজিব মিয়া বাদী হয়ে শাওনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এতে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার এসআই জয় পাল বলেন, সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে বিকালে শাওনকে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
ওসি হাফিজুল ইসলাম বলেন, “চেয়ারম্যান ও মেম্বারের ভুয়া সিল-স্বাক্ষর বসিয়ে অন্য জেলার ১৩ নাগরিককে জন্মনিবন্ধন তৈরি করে দেন শাওন। যারা রোহিঙ্গা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শাওন তার ব্যবহৃত সাইটটির পাসওয়ার্ড হ্যাক হয়েছে বলে দাবি করলেও প্রাথমিক তদন্ত এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। আশা করছি তদন্তে সবকিছু বেরিয়ে আসবে।”
মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, বাইরের জেলার ১৩ জনকে এখানকার জন্মনিবন্ধন করে দেওয়ার বিষয়টি টের পাওয়ার পরই পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউএনওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলার আর কোথাও যেন কেউ এমন কাজ করতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।