রোহিঙ্গাদের ‘সম্মানজনক প্রত্যাবাসন’ প্রত্যাশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সমাপনী অনুষ্ঠানে আইজিপি বেনজির আহমেদ বলেন, “অপরাধী হিসেবে কেউ জন্ম নেয় না, পরিস্থিতি তাকে অপরাধী করে তোলে।

কক্সবাজার প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Sept 2022, 05:21 PM
Updated : 15 Sept 2022, 05:21 PM

রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বৃহস্পতিবার বিকালে কলাতলীর হোটেলে লংবিচের বলরুমে ‘নবজাগরণ: অপরাধকে না বলুন’ শীর্ষক কর্মশালার সমাপনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।  

গত ২৯ অগাস্ট দুপুরে র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন কর্মশালার উদ্বোধন করেছিলেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, “মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে মৃত্যুর মুখে পড়ে সীমান্তে চলে আসা রোহিঙ্গাকে মানবিক আশ্রয় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর থেকে আমরা নানা সমস্যা মোকাবিলা করছি। ”

প্রধানমন্ত্রী ‘তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বাংলাদেশকে সম্ভাবনার রোল মডেল’ গড়েছেন মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বঙ্গবন্ধু কন্যার দূরদর্শী নেতৃত্বেই তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে দেশ উন্নয়নশীলতার তকমা পেয়েছে। আমরা চাই, সবাই মিলে সোনার বাংলাদেশ গড়ব। তাই অপরাধ যেন কাউকে ছুঁতে না পারে সেই প্রচেষ্টায় র‌্যাবের ‘নবজাগরণ: অপরাধকে না বলুন’ প্রকল্প।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমাদের নিয়ে প্রতিবেশী ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মূল্যায়ন – জঙ্গি দমনসহ অনেক দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল। এ পাওনা র‌্যাবের হাত ধরেই এসেছে। যেখানে অন্যায় সেখানেই উপস্থিত হয়ে র‌্যাব এখন আমজনতার আস্থার প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী অপরাধ নিয়ে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন।

“সেই পথে হেঁটে সফলতা পেয়েছে র‌্যাব। অপরাধ যেই করুক আইনের হাত থেকেই বাঁচতে পারবে না, র‌্যাবের সেই ম্যাসেজ তৃণমূলেও পৌঁছে গেছে। আমরা জঙ্গিদের ধরেছি, পুনর্বাসনও করেছি।”

সমাপনী অনুষ্ঠানে আইজিপি বেনজির আহমেদ বলেন, “অপরাধী হিসেবে কেউ জন্ম নেয় না, পরিস্থিতি তাকে অপরাধী করে তোলে। শুধু অপরাধ দমন নয়, নানা কর্মমুখী পরিকল্পনায় অপরাধীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাও অব্যহত রেখেছে র‌্যাব। পরিশুদ্ধতায় অপরাধীকে পুনর্বাসনে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো হয় অনেককে। জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বিশ্বে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। এ প্রচেষ্টা অব্যহত রেখেছে র‌্যাব। এভাবেই সোনার বাংলা বিনির্মাণ সম্ভব।”

র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অপরাধে জড়ানোর ঝুঁকিতে থাকা কক্সবাজারের ৩৬ তরুণ-তরুণীকে স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণ দিয়েছে র‌্যাবের নতুন প্রকল্প ‘নবজাগরণ’। কক্সবাজার থেকে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অপরাধ ঝুঁকিতে থাকা লোকদের চিহ্নিত করে এ প্রকল্পের আওতায় এনে স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য উৎসাহিত করবে র‌্যাব।

তিনি বলেন, ‘নবজাগরণ’ হলো র‌্যাবের আর্লি ইন্টারভেনশন বা দ্রুত সমাধান প্রকল্প। এ প্রকল্পে যাদের নির্বাচিত করা হয়েছে, তারা এখনও অপরাধে জড়াননি তবে জড়ানোর ঝুঁকিতে ছিলেন।

“কক্সবাজারের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যটন নির্ভর পেশা, হোটেল-রেস্টুরেন্টে সার্ভিস বয়, ফটোগ্রাফার, ট্যুরিস্ট গাইড, ড্রাইভিং, সার্ফিংকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের নারী সদস্যদের দেওয়া হয়েছে সেলাই প্রশিক্ষণ। সবাই মিলে কাজ করলে আমরা সফল হব,” বলেন র‌্যাব মহাপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন।

এতে প্রশিক্ষণ পাওয়া তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ, শায়েকা আকতার মুক্তা, কক্সবাজারের ডিসি মামুনুর রশীদ, সায়মন বিচ হোটেলে এমডি মাহবুবুর রহমান, মেয়র মুজিবুর রহমান, এসপি মাহফুজুল ইসলাম, ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আকতার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা, সংসদ সদস্য জাফর আলম, আশেক উল্লাহ রফিক, সাইমুম সরোয়ার কমল ও কানিজ ফাতেমা আহমেদ বক্তব্য দিয়েছেন।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নবজাগরণের ব্যাপ্তি পর্যায়ক্রমে বাড়বে। জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে মাঠপর্যায়ে গ্রাম বৈঠক, কমিউনিটি বেজড নানা কর্মসূচি, সভা-সেমিনার এবং মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে। র‌্যাবের নতুন এ কার্যক্রমে এরই মধ্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হয়েছে।

সভায় আরও জানানো হয়, কক্সবাজারে পরীক্ষামূলক প্রকল্পে ড্রাইভিংয়ে পাঁচজন, সেলাই কাজে ১০ জন, টুরিস্ট গাইডে পাঁচজন, ফটোগ্রাফার পাঁচজন, সার্ভিস বয় ছয়জন, সার্ফিংয়ে পাঁচজন মিলিয়ে ৩৬ জনকে নির্বাচিত করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ পাওয়াদের মধ্যে ১১ জন নারীও আছে।

যাদের নির্বাচন করা হয়েছে তারা অপরাধের ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য আইকন হবেন বলে মনে করছে র‌্যাব।

র‌্যাবের দেওয়া তথ্যমতে, যাদের পাইলট প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে, তাদের বয়স ২০-৩০ বছর। তারা কোনো উৎপাদনশীল কাজে জড়িত ছিলেন না। কেউ স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে, কেউ বেকার, কেউ আবার অল্প শিক্ষিত, আবার কেউ ভবঘুরে টাইপের। কেউ ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করলেও মানসম্মতভাবে ছবি তুলতে পারেন না। উপার্জন বহুমুখী করতেই তাদের নবজাগরণের আওতায় আনা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, এর আগে ‘নবদিগন্তের পথে’ নামের প্রকল্প নিয়ে কাজ করেছে র‌্যাব। এদের মাধ্যমে ৪২১ অপরাধীকে আত্মসমর্পণ করিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যাদের মধ্যে ১৬ জন জঙ্গি এবং সুন্দরবন ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৪০৫ জন জলদস্যু ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মজীবী, এনজিও প্রতিনিধি, পেশাজীবী, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন প্রধান অতিথি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক