Published : 09 Sep 2025, 01:07 PM
ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই লেকের পানি বেড়ে যাওয়ায় খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু রায়হান বলেন, কাপ্তাই লেকের পানি বাড়ায় গত কয়েকদিন ধরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
সোমবার রাত থেকে মহালছড়ি উপজেলার সদর ও মুবাছড়ি ইউনিয়নের ব্রিজ পাড়া, কাপ্তাই পাড়া, সিলেটি পাড়া ও চট্টগ্রাম পাড়ার প্রায় ১৫৪ পরিবার পনিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান।
পানিবন্দিদের অনেকে ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। এছাড়া পানিতে সড়ক ডুবে যাওয়ায় মহালছড়ি উপজেলা সদরের সঙ্গে মুবাছড়ি ইউনিয়নের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। অনেকে নৌকায় করে চলাচল করছে।

মুবাছড়ি ইউনিয়নের মনারেটক এলাকার বাসিন্দা রত্ন উজ্জ্বল চাকমা বলেন, “মহালছড়ি উপজেলা সদরের সঙ্গে মুবাছড়ির ইউনিয়নে চলাচলের একমাত্র সড়কটি ডুবে গেছে। এই মৌসুমে এই নিয়ে চুর্তথবার সড়কটি ডুবল।”
তিনি বলেন, “যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় অনেকে ভোগান্তিতে পড়েছেন। এছাড়া মানুষের ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। লেকের পানি না কমলে উজানের অংশেও পানি কমবে না।
“ভবিষ্যতে সড়কের উচ্চতা বাড়িয়ে যদি পুর্ণনির্মাণ করা হয় তাহলে জনভোগান্তি কমবে।”
সিলেটি পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইলিয়াস মোল্লা বলেন, “এই মৌসুমে আমাদের ঘর চারবার ডুবেছে। একবার পানি উঠলে তিন-চার দিন থাকে। প্রতিদিনই পানি বাড়ছে।
“এছাড়া উজান থেকে পাহাড়ি ঢলে পানি নামায় আমাদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।”

চট্টগ্রাম পাড়ার বাসিন্দা মো. আবুল খায়ের বলেন, “লেকের পানি সামান্য বাড়লেই সিলেটি পাড়া, চট্টগ্রাম পাড়া আগে ডোবে। এবারও তাই হয়েছে।
“মানুষ এখন পানিবন্দি। পানি নামতে কয়েকদিন সময় লাগবে। স্থানীয়রা ভোগান্তিতে পরেছেন।”
কাপ্তাই হ্রদ মৎস উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্র মহালছড়ি উপকেন্দ্রের প্রধান মো. নাসরুল্লাহ আহমেদ বলছেন, “লেকের পানি বাড়ার কারণে মৎস অবতরণ কেন্দ্রের ল্যান্ডিং স্টেশন ডুবে গেছে। পানি আরও বাড়লে আমাদের অফিসও ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।”
মহালছড়ির পানিবন্দি ১৫৪ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে ইউএনও আবু রায়হান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “মহালছড়ি দাখিল মাদ্রাসা আশ্রয়কেন্দ্রে ছয়টি পরিবারের ২৩ জন আশ্রয় নিয়েছে। তাদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।”