Published : 30 Nov 2025, 09:35 PM
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি পরিবারের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সদস্যরা গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদেরকে গান গাইতে মানা করে দেওয়া হয়েছে। বাধাদানকারীরা বলেছেন, তাদেরকে ভিক্ষা করতে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর মুক্ত মঞ্চে প্রায় ৫০ বছর ধরে গান গেয়ে সংসার চালান পরিবারের কর্তা হেলাল মিয়া। তার সঙ্গে ছেলে-মেয়েরাও থাকেন।
কিন্তু বুধবার কিছু লোক এসে তাদেরকে গান গাইতে মানা করে যায়। তারপর থেকে তাদের গান গাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।
হেলাল মিয়া রোববার বলেন, বুধবার তারা প্রতিদিনের মতো গান করছিলেন। এরই মধ্যে কয়েকজন এসে গান গাইতে বাধা দেন। যে দলই ক্ষমতায় আসুক তাদেরকে এখানে গান গাইতে দেওয়া হবে না বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, তাদেরকে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের কথাও বলা হয়। পাশাপাশি তাদেরকে ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালাতে বলেন বাধাদানকারীরা।
তবে কারা এসে বাধা দিয়েছেন তাদের তিনি চেনেন না বলেও জানান হেলাল মিয়া।
সদর উপজেলার রাজঘর গ্রামের হেলাল মিয়ার পরিবারের মোট ১৩ জন সদস্য। এর মধ্যে নয়জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। উপার্জনক্ষমদের মধ্যে হেলাল মিয়া, চার ছেলে ও এক মেয়ে চোখে দেখেন না। তবে তারা কারো কাছে হাত পাতেন না। গান গেয়ে যে আয় হয় তা দিয়ে চলে ১৫ জনের বড় সংসার।
বিভিন্ন সময় এই পরিবারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমেও একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রচারিত হয়।
হেলাল মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর মুক্তমঞ্চে গান গেয়ে থাকেন। এটিই তাদের আয়ের একমাত্র উৎস। গান শোনে খুশি হয়ে মানুষ তাদের টাকা দেয়। প্রতিদিন এক-দেড় হাজার টাকা আয় করেন তারা। বিশেষ বিশেষ দিনে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্তও তারা আয় করেন।
হেলাল মিয়ার বয়স এখন ৬৫ পেরিয়েছে। সদর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের গানের শিল্পী শাহনূর শাহের কাছে থেকে তিনি ছোটবেলায় সঙ্গীতের তালিম নেন। ১০-১২ বছর বয়স থেকেই হাট-বাজারে গান করে বেড়ান তিনি। পরবর্তীতে সন্তানদেরকেও গান শেখান।
হেলাল মিয়া বলেন, “আমরা ভয়ে এখন গান করছি না। ৫০ বছর ধরে গান গাইলেও এমন হয়নি। এখন এমন কোনো জায়গাও পাচ্ছি না যে গান গাইব। গান গেয়ে আয় করতে না পারলে আমাদের সংসার চলা কঠিন হয়ে পড়বে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরিবারটি বিভিন্নভাবে সহযোগী করেছি। কিছু উশৃংখল ছেলে নাকি অন্ধ পরিবারকে বাঁধা দিয়েছে। আমি অন্ধ পরিবারটিকে বলেছি, আবার বসতে।”