Published : 16 Oct 2025, 11:48 AM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-রাকসু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের হাতের অমোচনীয় কালি উঠে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন শিবিরের ভিপি প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জুবেরী ভবনে’ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ অভিযোগ করেন শিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুস্তাকুর রহমান জাহিদ।
আঙুলের অমোচনীয় কালি নিয়ে চাকসু নির্বাচনেও অভিযোগ উঠেছিল স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল আগে থেকেই।
“আজকে আমরা দেখেছি কালি যেটা ব্যবহার করা হচ্ছে, কিছুক্ষণ পরই মুছে যাচ্ছে। কয়েকজন প্রার্থীর আমি দেখিছি, তাদের কিছুক্ষণ পরই নাকি মুছে যাচ্ছে।”
এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান শিবিরের এ প্রার্থী।
চাকসু ভোটের ফলাফল রাকসুতে কোন প্রভাব ফেলবে কি-না সাংবাদিকরা জানতে চাইলে জাহিদ বলেন, রাকসুতেও শিক্ষার্থীরা শিবিরের প্যানের ওপর ভরসা রাখবে বলে তিনি আশা করছেন।
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা যেভাবে ভোট দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন সেই আনন্দটা আমরা আগে কখনো পাইনি। আমরা ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা করছি, আশা করি শিক্ষার্থীরা আমাদের গ্রহণ করবে। শিক্ষার্থীরা আমাদের গ্রহণ করলে শিক্ষার্থীদের জন্য যে ইশতেহার আমরা দিয়েছি সেই ইশতেহার অনুযায়ী আমরা সর্বোচ্চ কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করব।”
সাড়ে তিন দশক পর ছাত্র সংসদে নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে ভোট দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে।
ভোট তথ্য
>> সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নয়টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলবে
>> ভোটগ্রহণ শেষে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে
>> মোট ভোটার ২৮ হাজার ৯০১ জন; তাদের ১১ হাজার ৩০৫ নারী, আর পুরুষ ১৭ হাজার ৫৯৬ জন
>> রাকসুর ২৩টি পদে মোট প্রার্থী ৩০৫ জন
>> ১৭টি হল সংসদের ২৫৫টি পদে মোট ৫৫৫ জন প্রার্থী হয়েছেন
>> সিনেটে পাঁচটি পদে ৫৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন
>> বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১২ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন
ভোট কীভাবে
নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ জানান, একজন প্রার্থী নির্দিষ্ট কেন্দ্রে ঢুকে পোলিং কর্মকর্তার কাছে সই করে ছয়টি ব্যালট পেপার পাবেন। এসব ব্যালট গোপন বুথে নিয়ে তা পূরণ করে স্বচ্ছ বাক্সে জমা দিতে হবে।
প্রথম ব্যালট পেপারে থাকছে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থীর তালিকা।
দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ব্যালটে আছে বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদপ্রার্থীদের নাম। পঞ্চম ব্যালটে থাকছে সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি পদপ্রার্থীদের নাম। আর ষষ্ঠ ব্যালটে থাকছে হল সংসদের প্রার্থীদের নাম।