Published : 24 Apr 2026, 08:15 PM
চাহিদা মত গ্যাস আমদানি ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং বাড়ার কথা বলেছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন অনেকাংশে গ্যাস নির্ভর জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে ১৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হলেও চাহিদা মেটাতে আরও ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করতে হয়।
“অর্থের সংস্থান থাকলেও কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে চাহিদা মাফিক গ্যাস আমদানি ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। সমস্যা সমাধানে কাজ করছে সরকার। এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়াতে নতুন টার্মিনাল নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে।”
শুক্রবার দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজারে বাসিয়া নদী খনন প্রকল্পের প্রস্তুতি দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নে জবাবে এসব বলেন তিনি।
সম্প্রতি সিলেটে লোডশেডিং বৃদ্ধি নিয়ে সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস। আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে অনেক অব্যবস্থাপনা ও অরাজকতা লাভ করেছি; যা এখন মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

“আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি মূল্যে জ্বালানি আমদানি করলেও তার অভিঘাত জনগণের ওপর পড়বে না, সরকার তা যথাযথভাবে ম্যানেজ করবে।”
“বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দর বাড়ায় দেশে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে; যা প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। সামান্য এ বৃদ্ধির ফলে পণ্যমূল্যে কেজি প্রতি মাত্র ৩০ পয়সার মত প্রভাব পড়তে পারে; যা মূল্যস্ফীতিতে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না”, বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
সৌদি আরব থেকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানির নিয়ে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মজুদ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশ যাতে জিম্মি না হয়ে পড়ে, সে লক্ষে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন স্টোরেজ বা সংরক্ষণাগার নির্মাণ করবে।”
২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বসিয়া নদী খনন কাজের উদ্বোধন করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, “৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালের ২৩ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে ওসমানীনগর হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পর্যন্ত এ খনন কাজ চলবে।
“এর ফলে প্রায় ৯০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।”
এ সময় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াৎ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম এবং সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।