বাগেরহাট বিসিক শিল্প নগরীতে ভোগান্তি, সংষ্কারের দাবি
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাগেরহাট বিসিক নগরীর প্রবেশ পথের মুখেই বড়বড় গর্ত; বৃষ্টি হলেই তাতে পানি জমে যায়।
বাগেরহাটের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প নগরীর (বিসিক) বেহাল সড়কে পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন কারখানা মালিকরা। মালামাল আনা নেওয়ায় ব্যবসায়ীদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি খরচ।
বাগেরহাটে তিন দশক আগে বিসিক শিল্প নগরী গড়ে উঠলেও তেমন সুযোগ সুবিধা বাড়েনি বলে অভিযোগ শিল্প মালিকদের। সড়কসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এ শিল্প নগরীর অনেক ব্যবসায়ী তাদের কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন।
বিসিক শিল্প নগরীর ব্যবসায়ীরা সড়কগুলোর সংষ্কার করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে। আর বিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, শিল্প মালিকদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন তারা।
বাগেরহাট বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপকের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনযায়ী, বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের পাশে ভৈরব নদের তীরে ৯০ এর দশকে ১২ একর জমির উপর ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প নগরী গড়ে ওঠে। এই নগরীতে ১১৯টি প্লটে ৩৭টি ছোট-বড় কারখানা রয়েছে।
বিসিকের একটি কারখানার মালিক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বাগেরহাট বিসিক নগরীর প্রবেশ পথের মুখেই বড়বড় গর্ত আর খানাখন্দ রয়েছে। বৃষ্টি হলেই তাতে পানি জমে যায়। এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে ভৈরব নদের জোয়ারের পানি উঠে রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়।
বৃষ্টি ও নদীর পানিতে ভেতরের পাঁচটি রাস্তার চারটিই চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এতে শিল্প মালিকদের উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নারকেল তেল মিল মালিক কমল দাম বলেন, এই বিসিক শিল্প নগরীর যাত্রা শুরুর সময় অন্তত ১৬টি নারকেলের তেল মিল গড়ে ওঠে। পরে তেল, ডাল, নারকেলের ছোবরার ম্যাট্রেস, টিন ও প্লাস্টিকসহ ৩০টির উপরে ছোট বড় কারখানা গড়ে উঠেছে। অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
“বিসিকের অভ্যন্তরে চলাচল ও পণ্য পরিবহনের জন্য পাঁচটি সড়ক রয়েছে; যার চারটি রাস্তায়ই চলাচলের অনুপোযোগী।”
কমলের অভিযোগ, বারবার তাগিদ দেওয়ার পরেও বিসিক কর্তৃপক্ষ রাস্তাগুলো সংষ্কার করছে না। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকায় তাদের দারুণ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
শক্তি ডাল মিলের মালিক স্বপন বসু বলেন, বিসিক শিল্প নগরী গড়ে ওঠার পর দ্বিতীয়বার নতুন করে আর রাস্তা হয়নি। প্রথমে যে সুযোগ সুবিধা ছিল, এখন তার কিছুই নেই। বিসিকে ঢোকা মুখের রাস্তাটি বেহাল অবস্থা। বর্ষা মৌসুমে রাস্তায় হাঁটু সমান পানি থাকে। এই রাস্তা দিয়ে পণ্য পরিবহণের ট্রাক মাঝে মাঝে ফেঁসে যাচ্ছে। এ কারণে ট্রাক আসতে চায় না। মালিকদের পরিবহণ খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
“তাছাড়া সুযোগ সুবিধা না বাড়ায় বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ড্রেনগুলো প্রসস্থ না হওয়ায় পানি নামতে পারে না। তাই রাস্তাগুলো সংষ্কার করার দাবি জানাচ্ছি।” বলেন তিনি।
এ বিষয়ে বাগেরহাট ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প নগরীর উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শরীফুল সরদার বলেন, বেশ আগে থেকেই এখানে অবকাঠামোর সমস্যা রয়েছে। প্রতিবছর যে বরাদ্দ পাই তাই দিয়ে রাস্তা ও ড্রেনের সংষ্কার কাজ করা হচ্ছে। তাছাড়া সুপেয় পানির যে সংকট রয়েছে তার জন্য খুব শিগগির পানির পাম্প ও বসানো হবে।
