Published : 09 Oct 2025, 08:52 PM
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাসড়কে যানজট কমাতে সড়ক ও জনপথের ১২ কর্মকর্তাকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড়ে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা মানেননি কেউ।
বরং বৃহস্পতিবার সারাদিনই তালাবদ্ধ থাকতে দেখা গেছে সরাইল-বিশ্বরোড মোড়ের সড়ক ও জনপথের অস্থায়ী কার্যালয়।
এর আগে বুধবার সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত বেহাল মহাসড়ক পরিদর্শন শেষে সড়ক সংস্কারের তদারকিতে থাকা ১২ কর্মকর্তাকে অস্থায়ী কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
নির্দেশনার সময় তিনি বলেছিলেন, “এটাই তোমাদের ক্যাম্প অফিস। ঢাকায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এখান থেকে সমস্যা সমাধান করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা হলে বরখাস্ত করা হবে।”
বৃহস্পতিবার বিকালে নাম না বলার শর্তে এক সরকারি কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সারাদিন কর্মকর্তাদের কেউ সেখানে উপস্থিত ছিল না এবং বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তিনি অস্থায়ী কার্যালয়টি তালাবদ্ধ দেখেছেন।
২০২০ সালে আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটার সড়ক চারলেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়। ভারতীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এফকন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এ প্রকল্প পরিচালনা করছে।
তবে নানা জটিলতার কারণে পাঁচ বছরেও কাজ সম্পন্ন হয়নি। বরং গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখায় মহাসড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে।
ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের কারণে ১২ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে সময় লাগে ৪–৬ ঘণ্টা। যানজটে গাড়ি দীর্ঘ সময় ধরে আটকা পড়ে থাকা যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের দৃশ্য।
বুধবার উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান নিজেও দুই ঘণ্টারও বেশি সময় যানজটে আটকা পড়েন। পরে মোটরসাইকেলে সরাইল-বিশ্বরোড মোড়ে পৌঁছান তিনি।
এ অবস্থায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও সরাইল-বিশ্বরোড মোড়ের খানাখন্দ অস্থায়ীভাবে মেরামত কাজ শুরু করেছে।
এ কাজের তদারকিতে গঠন করা ১২ সদস্যের কমিটিতে আছেন- ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক, কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, আশুগঞ্জ-আখাউড়া চারলেন মহাসড়ক প্রকল্পের পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালক, সড়ক ও জনপথ কুমিল্লা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী, মনিটরিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং প্রকল্পের প্যাকেজ-২ ও প্যাকেজ-৩ ব্যবস্থাপক।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার নরসিংদী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা-ই রাব্বি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার দায়িত্ব নরসিংদী থেকে আশুগঞ্জ পর্যন্ত।”
তবে বিশ্বরোড অস্থায়ী ক্যাম্পে থাকা নিয়ে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টার নির্দেশনার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রকৌশলীর দায়িত্বে।”
তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী ছুটিতে দেশের বাহিরে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি মাত্রই বিশ্বরোড থেকে থানায় এসেছি। আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারে জ্যাম নেই।
“তবে সরাইল বিশ্বরোড গোলচত্তর খাঁটিহাতা হয়ে সিলেট অভিমুখি ছয় লেনের কাজের ফলে সড়ক দিয়ে মালামাল আনা নেওয়া ও নামানোর ফলে এক কিলোমিটার পর্যন্ত ধীরে ধীরে গাড়ি চলছে। ”
পুলিশ সড়ক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
পুরানো খবর
উপদেষ্টা আসার খবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক মেরামতে 'তোড়জোড়'
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়কের দশা দেখতে গিয়ে যানজটে আটকা উপদেষ্টা
যানজটে আটকা গাড়ি, মোটরসাইকেলে করে সড়ক পরিদর্শনে গেলেন উপদেষ্টা