১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যানজটে আটকা গাড়ি, মোটরসাইকেলে করে সড়ক পরিদর্শনে গেলেন উপদেষ্টা

“মোটর সাইকেলে করে বিশ্বরোড মোড়ে আসেন উপদেষ্টা। এরপর তিনি সেখানে সড়ক পরিদর্শন করেন।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Oct 2025, 03:06 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:26 PM

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অংশের বেহালদশা ও যানজট পরিস্থিতি পরিদর্শনে যাওয়ার পথে তীব্র যানজটে পড়েছেন সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। পরে বাধ্য হয়ে তিনি মোটরসাইকেলে চড়েন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বুধবার বেলা ১টা ৫ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেলে করে বিশ্বরোড মোড়ে আসেন উপদেষ্টা। এরপর তিনি সেখানে সড়ক পরিদর্শন করেন।

“প্রায় ৪০ মিনিট পর যানজটে আটকে থাকা তার গাড়িটি বিশ্বরোডে আসে। পরে উপদেষ্টা ওই গাড়িতে করে আশুগঞ্জের দিকে রওনা হন।”  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত সড়কের দৈর্ঘ্য ১২ কিলোমিটার। যেকোনো যানবাহনে এলে এ পথ পাড়ি দিতে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট লাগে। তবে গত কয়েকমাস ধরে রাস্তার বেহাল দশার কারণে পাড়ি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগছে। যানজটের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত প্রায় ৫১ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। তবে প্রকল্পের কাজ চলছে ধীরগতিতে।

এ কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত যানজট নিত্যদিনের চিত্র। প্রকল্পের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ওই ১২ কিলোমিটার অংশ পরিদর্শনে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা ফওজুল কবির খান আসার খবরে রোববার থেকে সড়কের খানাখন্দের ভরাট শুরু করা হয়। এক পাশ বন্ধ রেখে সংস্কার কাজ চালানোর কারণে গত তিনদিন ধরে সেখানে তীব্র যানজট বেধে আছে।

বুধবার সকালে উপদেষ্টা ‘মহানগর প্রভাতী ট্রেনে’ করে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে নামেন। পরে সড়ক পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসার সময় আশুগঞ্জের হোটেল ‘উজানভাটিতে’ যাত্রাবিরতি করেন। সেখান থেকে যাত্রা শুরুর পর আশুগঞ্জের মৈত্রী স্তম্ভ এলাকায় দীর্ঘ যানযটে আটকা পড়েন তিনি।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও যখন যানবাহন এক ইঞ্চিও নড়ছিল না, তখন মোটরসাইকেলে গন্তব্যে পৌঁছার সিদ্ধান্ত নেন। 

সওজ ও জেলা প্রশাসন কার্যালয় জানিয়েছে, পাঁচ হাজার ৭৯১ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড’।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশি অর্থ ও ভারতীয় ঋণে চলমান প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ভারতীয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা কাজ ফেলে ফিরে যান।

প্রায় তিন মাস পর তারা ফিরে এসে কাজ শুরু করেন। এর মধ্যে তাদের অনেক মালামাল খোয়া গেছে। ৫ অগাস্টের পর প্রকল্পের কাজের গতি আরও কমে যায়। পরে প্রতিষ্ঠানটির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেপ্টেম্বরের শেষে সরকার অতিরিক্ত ১৬৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়।

উপদেষ্টা আসার খবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক মেরামতে 'তোড়জোড়'

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়কের দশা দেখতে গিয়ে যানজটে আটকা উপদেষ্টা