পঞ্চগড়ে স্কুলছাত্রীকে ‘দলবেঁধে ধর্ষণ’: ২ আসামির জবানবন্দি
আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
পঞ্চগড়ে ‘বেড়াতে নিয়ে’ স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার পঞ্চগড়ের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম অলরাম কার্জী এই আদেশ দেন।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আটোয়ারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. দুলাল উদ্দিন জানান, আদালতে গ্রেপ্তারকৃতদের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আসামিরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
পরে আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
স্বীকারোক্তি দেওয়া দুই আসামি হলেন আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের মালগোবা গ্রামের মো. রাজু ইসলাম (২০) ও সাইফুল ইসলাম (৪৮)।
শনিবার রাতে দশম শ্রেণির ছাত্রী আটোয়ারী উপজেলায় দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। তাদের বাড়ি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায়।
পরের দিন রোববার ওই স্কুলছাত্রীর বাবা সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা দুলাল উদ্দিন আরও জানান, একই আদালত ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর ২২ ধারায় জবানবন্দি নিয়ে তাকে তার বাবার জিম্মায় দেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে সে বাড়িতে গেছে।
অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে নানা কৌশলে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
ওই স্কুলছাত্রী রোববার জানিয়েছিলেন, কথিত প্রেমিক হাসান (২৫) বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে পুরাতন আটোয়ারী এলাকার বন্দরপাড়া গ্রামে সড়কের পাশে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে হাসান ও তার বন্ধু রাজু তাকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হাসান ও রাজু পালিয়ে যান।
ওই সময় উপস্থিত যুবকদের কাছে সাহায্য চাইলে উল্টো তারাও তাকে ধর্ষণ করে এবং রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে তুলে দেন।
