লোড শেডিংয়ে ভোগান্তিতে পিরোজপুর হাসপাতালের রোগীরা

জেনারেটর থাকলেও তা থেকে পুরো হাসপাতালে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখা সম্ভব হয় না।

মো. হাসিবুল ইসলাম হাসান, পিরোজপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 July 2022, 01:46 PM
Updated : 28 July 2022, 01:46 PM

বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ের মধ্যে গরমে পিরোজপুর সদর হাসপাতালের রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

জেনারেটর থাকলেও তা থেকে পুরো হাসপাতালে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখা সম্ভব হয় না বলে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে রোগীদের বেড সংকুলান না হওয়ায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে মেঝেতে বিছানা দিয়ে রোগীদের রাখা হয়েছে। এ নিয়ে রোগীদের অভিযোগ না থাকলেও গরম সমস্যা, রোগীদের দেখাশোনার অভাবসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।

গরমের মধ্যে শিশু ওয়ার্ডে অভিভাবকদের হাতপাখা চালিয়ে বাতাস করতে দেখা গেছে।

সেবিকাদের কক্ষে লাইট ফ্যান চললেও সে সুবিধা রোগীরা পাচ্ছে না।

বাগেরহাট জেলার চন্ডিপুর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সুদীপ চন্দ্র শীল বলেন, “কাল রাতে কারেন্ট গেছে এখনও কারেন্টের খোঁজ নাই। জেনারেটরেরও ব্যবস্থা নাই। সারা রাত কেউ একটু ঘুমাতে পারি না। একটা সরকারি হাসপাতালে যে সুযোগ সুবিধা থাকার কথা তার কিছুই আমরা পাই না। এখানে কাউকে ডেকে পাইতেও কষ্ট হয়।”

তারা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

আরেক রোগী মন্নাব মন্ডল বলেন, “সারাটা রাত কারেন্ট নাই। বেড কম, রোগী বেশি। প্রচণ্ড গরম, হাত পাখা চালিয়ে হাত ব্যথা হয়ে যায়। কারেন্ট গেলে পরশু দেখছিলাম একটা বাল্ব জ্বলে, কাল রাতে তাও জ্বলে নাই। আর ফ্যান তো চলেই না।”

শিশু ওয়ার্ডের এক অভিভাবক মজিদ ব্যাপারী বলেন, “মঠবাড়িয়া থেকে বাচ্চার জ্বর নিয়ে আসছি। কারেন্ট নাই অনেক সময়। গরমে সবার অবস্থাই খারাপ। কিছু করারও নাই।”

এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নিজাম উদ্দিন জানান, “আমাদের যে জেনারেটরের ব্যবস্থা রয়েছে তাতে পুরো হাসপাতালকে সেবা দেওয়া সম্ভব না। তাই রোগীরা গরমে কষ্ট পেলেও আমাদের জেনারেটরের মধ্যেমে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”

জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাসনাত ইউসুফ জাকি বলেন, “হাসপাতালে যে জেনারেটর আছে সেটি পুরো হাসপাতালকে সেবা দিতে অক্ষম। তাই হাসপাতালে জেনারেটর সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।”

ওজোপাডিকো নির্বাহী প্রকৌশলী মৃণাল কান্তি বড়াল জানান, জেলায় দিনে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা করে লোড শেডিং করা হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক